Smart Stock

Share Market, Analysis, Learning, Tools, News, All in one place.

Monday, September 17, 2018

Investment Strategy : Part-05

3:13 PM 0
Investment Strategy : Part-05

বিনিয়োগ পদ্ধতি : ভ্যালু ইনভেস্টমেন্ট


পুজিবাজারে সফল হবার অসংখ্য পদ্ধতি রয়েছে। তবে কোন পদ্ধতিই  অপনাকে সফল হবার শতভাগ নিশ্চয়তা দিবে না। এই  অসংখ্য বিনিয়োগ পদ্ধতির মধ্যে আমার পছন্দের একটি পদ্ধতি হল ভ্যালু ইনভেন্টমেন্ট। ভ্যালু ইনভেন্টমেন্ট এর জনক বেঞ্জামিন গ্রাহাম, আমার বিনিয়োগ আইডল। মার্জিন অফ সেফটি - এই ধারনা তার কাছ থেকে শেখা, যা দিয়ে পুজিবাজারের ছোট-বড়  উত্থান পতনেও টিকে আছি আট বছর ধরে।

ধারনাটি খুবই সাধারন, কমন সেন্স বলতে পারেন। যখন ১০০ টন ওজন বহন করার মত ব্রিজ বানানো হয়, তখন তা ডিজাইন করা হয় ১৩০-১৫০ টন ওজন নেয়া মত করে। আর সর্বোচ্চ ১০০ টনের বাহন চলাচলের অনুমোদন দেয়া হয়। এই অতিরিক্ত ৩০-৫০ টনই ব্রিজটির মার্জিন অফ সেফটি। এই ধরণের সেফটি মার্জিন আমারা মানব জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে থাকি। দরকারের চাইতে কিছু অতিরিক্ত থাকা সব সময় ভাল। তাতে প্রয়োজনের সময় টানা-টানি করতে হয় না।

পুজিবাজারে এই ধারনা বহু পুড়নো। আজ থেকে প্রায় আশি বছর আগে বেঞ্জামিন গ্রাহাম এই ধারনার প্রবর্তন করেন।  ১০ টাকার সম্পদ যদি ৫ টাকায় কেনার সুযোগ পাওয়া যায় তবে ভয় না পেয়ে সেই সুযোগ কাজে লাগানো উচিত। আমরা জামা, জুতা, লেপটপ থেকে শুরু করে ফ্লেট, জমি, বাড়ি কেনার জন্য মূল্য ছাড়ের অপেক্ষায় থাকি। ল্যাপটপ মেলা, আবাসন মেলার প্তহেক্ষায় থাকি বছর জুড়ে। উদ্দেশ্য যদি কিছু ছাড় পাওয়া যায়। শুধু পুজিবাজারে আমাদের আচরন ব্যাতিক্রম, আমরা পতনে বিক্রয় করি আর উত্থানে ক্রয়। এর কারন আর কিছুই না, কোম্পানি সম্পর্কে অজ্ঞতা অথবা অবিশাস।


যদি আগামী কাল ঘোষনা আসে ৭০ হাজার টাকার আইফোন ৪০ হাজারে দেয়া হবে। তবে আইফোট স্টোরের সামনে লাইন লেগে যাবে নিশ্চিত। কিন্তু যারা ৭০ হাজারে ইতিমধ্যেই আই ফোন কিনেছে তারা কি বিক্রি করে দেয়ার জন্য উতলা হয়ে উঠবেন? আইফোন স্টোরের পাশে সেকেন্ড হ্যান্ড আইফোন বিক্রির বুথ খুলবেন?  না প্রায় কেউই বিক্রি করবেন না। কারন তারা সবাই আইফোনের কোয়ালিটি ও ব্রেন্ডটির ভ্যলু সম্পর্কে জানে।

একই ভাবে যদি কোন স্টকের ভ্যালু সম্পর্কে আপনার ধারনা থাকে তবে বাজারের চলতি দাম নিয়ে আপনি চিন্তিত হবেন না। অবশ্য স্টকের ভ্যালু নির্ণয় করা সহজ কাজ নয়। তবে ১-২ ঘন্টা সময় ব্যায় করলে কাছাকাছি এইটা ধারণা পাওয়া সম্ভব। এবার যদি ধারনা করা ভ্যালুর চাইতে ৩০-৪০ শতাংশ কম দামে স্টকটি বাজার থেকে কেনা যায় তবে নিশ্চিন্ত থাকা যায়। কারন ৩০-৪০ শতাংশ ভুল হবার সম্ভবনা অতি নগন্য। পুজিবাজারে এটাই আপনার মার্জিন অফ শেফটি।

তাই জানুন বেঞ্জামিন গ্রাহামের মার্জিন অফ শেফটি ও ভ্যালু ইনভেন্টমেন্ট  সম্পর্কে। যার অনুসারীগন মহা প্রতাপে পুজিবাজারে বাজিমাত করে চলেছে বিগত ৫০-৬০ বছর ধরে। তার অনুসারীরা পুজিবাজারে স্পস্ট ব্যাতিক্রম। সাধারনের সাথে তাদের বিনিয়োগ চিন্তাধারা আচরণ মেলে না। কিন্তু সাফল্যের বিচারে তাদের ধারে কাছে কেউ নাই।

Courtesy By : Hasan Shaharear

Fundamental VS Technical Analysis

3:05 PM 0
Fundamental VS Technical Analysis

ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস বনাম টেকনিক্যাল এনালাইসিস: কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা


পূঁজি বাজারে একটি স্টকের আপেক্ষিক আচরণ কী রূপ হবে তা নির্ণয়ের জন্য বহু মত ও পথ রয়েছে। এই সব মত ও পথের অনুসারীদের অনেকেই বিনিয়োগে সফলাতা পেয়েছেন আবার অনেকে ব্যার্থ হয়েছেন। তাই এদের গুণগ্রাহী যেমন আছে কট্টর সমালোচক ও তেমন আছে। শত মত শত পথের মধ্যে জনপ্রিয় দুটি মতাদর্শ (two schools of thought) হল - (১) ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস ও (২) টেকনিক্যাল এনালাইসিস। অন্যদের মত এই দুই বিনিয়োগ কৌশল বা দর্শনের সমর্থনকারী এবং প্রতিপক্ষ উভয়েরই জোড়ালো অবস্থান রয়েছে।

পূঁজি বাজারে যারা নতুন অথবা যারা মাত্র বাজার নিয়ে জ্ঞান আহরণে সচেষ্ট হয়েছেন তাঁরা প্রায়ই এই দুই মতাদর্শের অনুসারীদের পাল্লায় পড়ে কিংকর্তব্যবিমূড় হয়ে পরেন। এক পক্ষের মুরিদরা যদি ডানের পথ দেখায় তো অপর পক্ষ বামের পথ দেখায়। উভয়ের এই পূর্ব-পশ্চিম অবস্থার কারণ বুঝতে বুঝতেই নতুনেরা হয়রান।  তাই আজ চেষ্টা থাকবে  অল্প পরিসরে নতুনদের  জন্য এই বিবিয়োগ কৌশলের তুলনা মূলক একটি চিত্র উপস্থাপন করার  এবং সেই  সাথে কিছু প্রচলিত ভুল ধারনা শুধরে  দেয়ার।

টেকনিক্যাল এনালাইসিস - এই মতাদর্শের অনুসারীরা দক্ষ বাজার তত্বে (efficient market theory) বিশ্বাসী। তাঁরা বিশ্বাস করেন 'বাজার সব সময় নির্মোহ আচরণ করে কারণ সে সব কিছু জানে '। [Market is always right because it knows every thing] একটি কোম্পানির অতীত, বর্তমান ও নিকট ভবিষ্যৎ সব তথ্যই বাজার জানে। তাই এখানে বিনিয়োগকারীগণ নিজেদের বিচার-বুদ্ধি প্রয়োগ করে সুবিবেচনা প্রসূত মূল্য নির্ধারন করেন। অকশনের বাজারে সবাই নিজেদের হ্যা-না (ক্রয়/বিক্রয়) ভোট দিয়েই যোগ্য দাম ঠিক করেন। তাই এখানে বিজয়ী তথা স্রোতের পক্ষেই নৌকা চালাতে হয় (Trend is your friend)। পরাজিতদের ভাগ্যে জোটে শুধুই লাঞ্ছনা ( Don't fight against the Market. if you leave the market today, Mr. Market will leave you tomorrow)।

অন্য ভাবে বলতে গেলে টেকনিক্যাল এনালাইসিসে 'চাহিদা-যোগান' এটি-ই সব কিছুর নিয়ন্ত্রক। ষ্টকের প্রাইস এবং ভলিউম আপনাকে বলে দেবে হাওয়া এখন কোন দিকে। কোম্পানির ফান্ডামেন্টাল (পণ্য বিক্রি, উৎপাদন ব্যয়, লাভ-লোকসান, ঋণ, পূঁজি ইত্যাদি) তথ্য জানার কোন প্রয়োজন নাই। কারণ বাজার এগুলর সব কিছু জানে এবং সব জেনেই ষ্টকের দাম নির্ধার করে। বাজার ছন্দ (Pattern) মেনে চলে, আপনি ততক্ষণ লাভবান হবেন যতক্ষণ এই ছন্দ ঠিক থাকবে। ছন্দ পতন হলেই আপনি বিপদে পড়বেন। মূলত স্বল্প মেয়াদী (অনূর্ধ ৩ মাস) বিনিয়োগের জন্য টেকনিক্যাল এনালাইসিস আদর্শ। আবহাওয়া বদলের মতই মানুষের মন বদলায়, আজকে হাস্যজ্জল তো কালকে বিষাদময়। ফলে চাহিদা-যোগান পরিস্থিতি নিমিষেই বদলে যেতে পারে। মার্কেট সেন্টিমেন্ট নির্ভর টেকনিক্যাল এনালাইসিস তাই ধীর্ঘ মেয়াদী বিনিয়োগের জন্য অনুপযুক্ত। এক জন টেকনিক্যাল এনালিস্ট হিসেবে আপনার সাফল্য নির্ভর করবে মার্কেট টাইমিং এর উপর। টাইমিং যত ভাল হবে আপনার পকেট তত ফুলে ফেঁপে উঠবে।


ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস - এই মতাদর্শের অনুসারীরা দক্ষ বাজার তত্বে (efficient market theory) আস্থাশীল নয়। 'দক্ষ বাজার ব্যবস্থা' এর পূর্ণ কার্যকারীতা তাত্ত্বিক ভাবে প্রমাণ করা গেলেও বাস্তবে এটি পূর্ণ মাত্রায় ক্রিয়াশীল নয়। অবাধ তথ্য প্রবাহের যুগেও কোম্পানির ফান্ডামেন্টাল তথ্য একই সময়ে একই গতিতে সকল বিনিয়োগকারীর কাছে পৌছায় না। আবার একই সময়ে সব তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা গেলেও সবাই একই মাপকাঠিতে তাদের বিচার-বিশ্লেষণ করে না। ফলে ষ্টকের অন্তর্নিহিত মূল্য (Intrinsic Value) ও বাজার মূল্যে পার্থক্য সৃষ্টি হয়। কোম্পানির আর্থিক বিবরণী, ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্ভবনা / প্রতিবন্ধকতা, সরকারী নীতি ও সামগ্রিক ভাবে দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিবেচনা করে একটি কোম্পানিকে মূূল্যায়ন করা হয়। যা থেকে এর ষ্টকের অন্তর্নিহিত মূল্য নির্ধারন করা হয়।

ষ্টকের অন্তর্নিহিত মূল্য ও বাজার মূল্যে পার্থক্য থেকেই অতিমুল্যাতিত ও অবমূল্যায়িত অবস্থার সৃষ্টি হয়। এক জন ফান্ডামেন্টাল এনালিস্ট অবমুল্যাতিত ষ্টক ক্রয় করে এবং অতিমুল্যাতিত ষ্টক বিক্রি করে মুনাফা করে (Price what you pay and Value what you get)। তবে কোন ষ্টকের অতিমুল্যাতিত অথবা অবমূল্যায়িত অবস্থা অনুধাবন করতে বাজারের সময় লাগে। বাজার যখন এই পার্থক্য আবিষ্কার করে তখনই চাহিদা-যোগান পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। তাই এখানে পূঁজি এবং সময় উভয়ই বিনিয়োগ করতে হয়। বাজারের কত আগে আপনি এই তথ্য আবিষ্কার করলেন আর কত সময় অপেক্ষা করবেন মূলত তার উপরই ফান্ডামেন্টাল এনালিস্ট হিসেবে আপনার সাফল্য নির্ভর করছে।

Popular quotes

Technical Analysis (TA) -
1. Trend is your friend, be with the trend.
2. Market is always right. Don't fight against the Market.
3. Stock makes pattern and history tends to repeat itself.
4. Buy high, sell higher.
5. Buy rumor, sell news.
6. Don't love a company, only love profits.
7. Stay out when bear show up , get in when bull runs.
8. If you not risk enough, you won't profit enough.
9. Timing is everything that decide your investment fate.
10. Mr. market will give it back what it takes from you.

Fundamental Analysis (FA) -

1. Don't follow the market trend, follow the company, because Mr. market tends to make mistake.
2. Price what you pay and value what you get. In stock market every one knows the price but very few know the value.
3. Don't switch too many, act like an entrepreneur. Stay with a company till it goes well.
4. Only trust what your analysis says. Even pro analysts make mistake.
5. Buy low, sell high. Back stocks (fundamentally good) that abandon by others.
6. Buy a good company with reasonable price, don't buy a reasonable company with wonderful price.
7. Consider bear market as an opportunity to buy good companies in bargain price.
8. History only tells the past. To go forward you need to see through the windshield not the rear view mirror.
9. Always think about the margin of safety, don't lose your money.
10. If you aren’t willing to own a stock for ten years, don’t even think about owning it for ten minutes. The perfect holding period is lifetime.

বুঝতেই পারছেন, দুই কৌশলের চিন্তা ধারায় ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। তাই নতুন কোন বিনিয়োগ উপদেশ শোনার পরে ভাবুন উপদেষ্টা কোন মতাদর্শে (two schools of thought) বিশ্বাসী। যদি আপনার সাথে মিলে যায় তবেই উপদেশগুল আপনার জন্য প্রযোজ্য। পূঁজি বাজারের সব কিছু সবার জন্য সমান ভাবে ফলদায়ক নয়। তাই আপনার সাথে মানসই কৌশল অবলম্বন করুন।


Courtesy By : Hasan Shaharear

Sunday, September 16, 2018

Portfolio Management

11:48 PM 1
Portfolio Management

পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনাঃ পূঁজি বণ্টন কৌশল

পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলর অন্যতম একটি ধাপ হল পূঁজি বণ্টন (asset allocation)। যথাযথ ষ্টক বাছাই ও পূঁজির সুষম বণ্টন বিবিয়োগকারী হিসেবে পুজিবাজারে আপনার ধীর্ঘ মেয়াদী অবস্থান নিশ্চিত করবে। পূঁজি বাজার দ্রুত মুনাফা অর্জনের স্থান নয়। লম্বা সময় ধরে ধারাবাহিক ভাবে মুনাফা প্রাপ্তিই পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ করার আসল উদ্দেশ্য। পূঁজি রক্ষা ও মুনাফার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করনে প্রতিটি বিনিয়োগকারীর জন্য পূঁজি বণ্টন কৌশল অনুসরণ করা অত্যাবশ্যকীয়।


বিনিয়োগ পরিকল্পনার প্রথম ধাপে আপনি ভবিষ্যৎ আর্থিক লক্ষ্য, ঝুঁকি সহনশীলতা এবং কত সময়ের জন্য বিনিয়োগ করবেন তার উপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় মুনাফার হার (required rate of return) নির্ধারণ করবেন। দ্বিতীয় ধাপে পুঁজিবাজারের সম্ভবনা এবং প্রত্যাশিত রিটার্ন নিরূপণ করুন। একই সাথে অন্যান্য সম্পদ শ্রেণী (asset class) থেকে প্রাপ্য মুনাফা ও ঝুঁকির হার পূর্বানুমান করুন। সাধারণ ভাবে সম্পদকে দুইটি ক্লাস/ভাগে ভাগ করা যায়: (১) প্রচলিত সম্পদ শ্রেণী ( যেমনঃ স্টক, বন্ড, এবং নগদ অর্থ) এবং (২) বিকল্প সম্পদ শ্রেণী (যেমনঃ মিউচুয়াল ফান্ড, পণ্যদ্রব্য, ভূমি-ঘরবাড়ি (রিয়েল এস্টেট), প্রাইভেট ইকুইটি, হেজ ফান্ড ইত্যাদি)।


তৃতীয় ধাপ হল পূঁজি বণ্টন। প্রথম ধাপে ঠিক করা আর্থিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য, আপনার ঝুঁকি গ্রহণের ইচ্ছা ও সক্ষমতার ভিত্তিতে পূঁজি বণ্টন কৌশল গড়ে উঠবে।আপনার পূঁজি, কোন সম্পদ শ্রণীতে কতটুকু পরিমাণে বিনিয়োগ করা হবে তা-ই নির্ধারিত হবে এই ধাপে। চরিত্রগত ভেবে প্রতিটি সম্পদ শ্রেণীর ঝুঁকি ও মুনাফার মাত্রায় তাৎপর্যপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। কম ঝুঁকি গ্রহণে অল্প মুনাফা এবং বেশী ঝুঁকি গ্রহণে অধিক মুনাফা। মুনাফা ও ঝুঁকি বৈচিত্রতার সর্বচ্চ সুবিধা নেয়ার জন্যই পূঁজি বণ্টন কৌশল প্রয়োজনীয়।


উদাহরণস্বরূপঃ
পোর্টফোলিও-১ (২০% স্টক, ৮০% বন্ড/এফডিয়ার), পোর্টফোলিও-২ (৮০% স্টক, ২০% বন্ড/এফডিয়ার)।

পোর্টফোলিও-২ এর তুলনায় পোর্টফোলিও-১ এর ঝুঁকি ও মুনাফা উভয়ই কম। কিন্তু পোর্টফোলিও-১ নিয়মিত ভাবে অধিক নগদ অর্থ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দেয়। এটি লক্ষণীয় যে, পোর্টফোলিও-২ একটি অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ পোর্টফোলিও। এটি এক জন ২৫/৩০ বছর বয়সী বিনিয়োগকারীর জন্য উপযোগী। কারণ তার পক্ষে স্টক মার্কেটের উঠা-নামা সহ্য করে ধীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ করা সম্ভব। কর্মক্ষম হওয়ায় তার নগদ অর্থ প্রাপ্তির বিকল্প উৎস (চাকুরী, ব্যবসা) রয়েছে। তাই স্বল্প সময়ে নগদ প্রাপ্তির চাইতে সর্বচ্চ পরিমাণ মুনাফা অর্জন তরুণ বিনিয়োগকারীদের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, পোর্টফোলিও-১ মধ্য বয়সী অথবা পৌড় বিনিয়োগকারীরদের জন্য উপযোগী। যিনি অবসরের কাছাকাছি অথবা জীবনের শেষ পর্যায়ে চলে এসেছেন তাঁর পক্ষে পূঁজি বাজারের বড় পতন সহ্য করা প্রায় আসম্ভব। অনেক বেশী মুনাফা অর্জনের চাইতে ঝুঁকি মুক্ত উপায়ে কম মুনাফায় নিয়মিত অর্থ প্রাপ্তি তাঁর জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ।


কেন পুজি বণ্টন গুরুত্বপূর্ণ?
পূঁজি বণ্টন কৌশল অবলম্বনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হল এটি বিনিয়োগে বৈচিত্র আনে (investment diversification)। বিভিন্ন শ্রেণীর সম্পদের সংমিশ্রণে বিনিয়োগকারী তার পোর্টফোলিও ঝুঁকি কমিয়ে আনতে পারেন। যদিও বেশির ভাগ মানুষ এই ধারণা বুঝতে চায় না, তারা সব সময় সর্বাধীক রিটার্ন দেয়া সম্পদেই বিনিয়োগ করতে চান। যা প্রকারন্তরে ব্যার্থতা ডেকে আনে। উদাহরণ স্বরূপ,


বিনিয়োগকারী-১ তার পোর্টফলিওতে ৫০% ষ্টক ও ৫০% বন্ড/এফডিয়ার ধারণ করেন। অপর দিকে বিনিয়োগকারী-২ তার পোর্টফলিওতে শুধু ষ্টক ( ১০০%) ধারণ করেন। প্রথম বছর পূঁজি বাজার ১০% ও ব্যাংক ৬% রিটার্ন দিয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় বছর পূঁজি বাজার -৫% ও ব্যাংক ৬% রিটার্ন দেয়ায় দুই বছর পর বিনিয়োগকারী-১ তাঁর প্রতিযোগীর তুলনায় অধিক মুনাফা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন। মূলত উচ্চ ঝুঁকির ষ্টক ও নিম্ন ঝুঁকির এফডিয়ারে পুঁজির সুষম বন্টন কৌশলই বিনিয়োগকারী-১ এর সাফল্যের মূল রহস্য।

 
বিনিয়োগকারী-১ [১ম বছর-(১০+৬)/২= ৮, ২য় বছর- (৬-৫)/২=০.৫। ২ বছর পর মোট রিটার্ন ৮.৫%]
বিনিয়োগকারী-২ [১ম বছর-১০, ২য় বছর- (-৫)। ২ বছর পর মোট রিটার্ন মোট ৫%]


বিভিন্ন প্রকার পূঁজি বণ্টন কৌশল:

বিনিয়োগের সময় কাল এবং ঝুঁকি সহনশীলতা বিবেচনা করে সম্পদের আদর্শ মিশ্রন তথা অনুপাত নির্ধারণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল কাজ। এই অনুপাত ব্যাক্তি ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হবে। বিনিয়োগের জন্য যার দীর্ঘ সময় এবং উচ্চ ঝুঁকি সহনশীলতা রয়েছে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই স্টক মার্কেটের জন্য অধিক পূঁজি বরাদ্দ করবেন। পোর্টফোলিওতে স্টক কত টুকু ধারণ করা উচিত তার একটি প্রাচীন নিয়ম (traditional rule of thumb) রয়েছে। বলা হয়ে থাকে ১০০ থেকে আপনার বয়স বাদ দিলে যা থাকে ততটুকু পূঁজি ষ্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করা শ্রেয়। যদি আপনার বয়স ২৫ এবং মোট পূঁজি ১০ লক্ষ টাকা হয়, তবে পোর্টফোলিওতে (১০০-২৫)=৭৫% স্টক মার্কেট ও বাকি ২৫% ব্যাংক এফডিয়ার থাকা উচিত। অর্থাৎ ১০ লক্ষ টাকা থেকে ৭.৫ লক্ষ পূঁজি বাজারে ও ২.৫ লক্ষ ব্যাংকে রাখা উচিত। তবে বছরের পর বছর ধরে চলে আসা এই নিয়মকে বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত রক্ষণশীল পূঁজি বণ্টন কৌশল হিসেবে আখ্যায়িত করেন।


বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় দুই ধরণের পূঁজি বণ্টন কৌশল নিম্নে আলোচনা করা হলঃ

ধীর্ঘ মেয়াদী পূঁজি বণ্টন কৌশল (Strategic asset allocation): এই কৌশল একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে একজন বিনিয়োগকারীর ঝুঁকি সহনশীলতা এবং প্রত্যাশিত রিটার্ন মাথায় রেখে বিভিন্ন সম্পদের জন্য বিভিন্ন অনুপাতে পূঁজি বণ্টন করে। ধরুন যদি স্টক মার্কেটের জন্য ৫০% পূঁজি বরাদ্দ রাখা হয় তবে ৫% থেকে ১০% অনুমোদনযোগ্য বিচ্যুতি অনুসরণ করা হয়। যদি ষ্টক মার্কেটে আপনার পূঁজি অনুমোদনযোগ্য বিচ্যুতি এর অধিক হ্রাস-বৃদ্ধি হয় তবে আপনাকে পোর্টফোলিও সমন্বয় (rebalanced) করতে হবে। ১০% বিচ্যুতি অনুসারে পূঁজি ৫০% থেকে ৪০% বা তার বেশী নীচে নেমে গেলে আপনি অতিরিক্ত স্টক কিনবেন। আর যদি বরাদ্দকৃত পূঁজি ৬০% এর বেশী বেড়ে যায় তবে আপনি স্টক বিক্রি করে পুনরায় পুঁজির অনুপাত ৫০% এ ফিরিয়ে আনবেন।


রক্ষণশীল পূঁজি বণ্টন কৌশল [৪০% ষ্টক, ৪৫% বন্ড/এফডিয়ার, ১৫% ক্যাশ]
মধ্যবর্তী পূঁজি বণ্টন কৌশল [৬০% ষ্টক, ৩০% বন্ড/এফডিয়ার, ১০% ক্যাশ]
আগ্রাসী পূঁজি বণ্টন কৌশল [৭৫% ষ্টক, ২০% বন্ড/এফডিয়ার, ৫% ক্যাশ]


স্বল্প মেয়াদী পূঁজি বণ্টন কৌশল (Tactical asset allocation): সাধারণ অবস্থায় বিনিয়োগকারীগন ধীর্ঘ মেয়াদী পূঁজি বণ্টন কৌশল অবলম্বন করবেন। কিন্তু পূঁজি বাজার বা বন্ড/এফডিয়ার মার্কেটে ঘটে যাওয়া আকর্ষিক দুর্ঘটনা থেকে আত্নরক্ষার্থে কিংবা হটাৎ প্রাপ্ত সুযোগ কাজে লাগাতে ধীর্ঘ মেয়াদী পূঁজি বণ্টন কৌশল থেকে সরে আসাই স্বল্প মেয়াদী কৌশলের মূল লক্ষ। ধরুন আপনার ব্যাংক বন্ড/এফডিয়ারের রিটার্ন কমিয়ে দিল ফলে এই খাতে আপনার বিনিয়োগ আর আগের মত লাভজনক নয়। সুতরাং আপনি বন্ড/এফডিয়ারের কিছু অংশ সাময়িক সময়ের জন্য পুজি বাজারে নিয়ে আসবেন। বন্ড/এফডিয়ারের রিটার্ন আবার আগের স্থানে ফিরে গেলে আপনিও অতিরিক্ত অর্থ পুজি বাজারে থেকে সরিয়ে নিবেন। অর্থাৎ আপনি আবার মূল কৌশলে ফিরে যাবেন। আবার পূঁজি বাজারে উত্থান ঘটলেও হাতে থাকা নগদ অর্থ স্বল্প মেয়াদে পূঁজি বাজারে আনতে পারেন। বাজার স্বাভাবিক হয়ে এলে অতিরিক্ত বিনিয়োগ আবার নগদ অর্থে পরিবর্তন করুন। বিপরীত ভাবে ষ্টক মার্কেটে পতন শুরু হলে আপনি এখান থেকে অর্থ সরিয়ে ব্যাংকে রাখুন। পতন শেষে আবার তা পূঁজি বাজারে ফিরিয়ে আনুন।

পূঁজির সুষম বণ্টন পোর্টফোলিও নির্মাণ প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ব্যাক্তি ভেদে এটি খুব কঠোরভাবে অথবা কিছুটা ছাড় দিয়ে অনুসরণ করা হয়। ষ্টক, বন্ড ও নগদ অর্থ – এদের মিশ্রনটি কোন অনুপাতে হবে তা একান্তই ব্যাক্তির বয়স, ঝুঁকি সহনশীলতা, ভবিষ্যৎ লক্ষ, বিনিয়োগ সময়কাল এবং পুঁজি বাজার থেকে তার প্রত্যাশার উপর নির্ভরশীল। এটা খেয়াল করা জরুরী যে, এক ব্যক্তির জন্য যে সম্পদ মিশ্রন আদর্শ ভিন্ন ব্যাক্তির জন্য তা সম্পূর্ণরূপে অনুপযুক্ত হতে পারে।


Courtesy By: Hasan Shaharear