Smart Stock: Investment Strategy

Share Market, Analysis, Learning, Tools, News, All in one place.

Showing posts with label Investment Strategy. Show all posts
Showing posts with label Investment Strategy. Show all posts

Monday, September 17, 2018

Investment Stragey : Part-07

3:34 PM 0
Investment Stragey : Part-07

আন্দ্রে কস্তোলানির ডিমতত্ত্বঃ


১৯০৬ সালে হাঙ্গেরিতে জন্ম নেয়া আন্দ্রে কস্তোলানি ইউরোপীয় আর্থিক বাজারের সবচেয়ে বড় লিজেন্ডদের একজন। দর্শন ও ইতিহাসের এ ছাত্র বাজারের সেন্টিমেন্ট রিডার ছাড়া কিছুই ছিলেন না। সগর্বে নিজেকে স্পেকুলেটর বলে দাবি করতেন তিনি। ভ্যালু ইনভেস্টমেন্টের খুঁটিনাটি নিয়ে কোনোদিন ভেবেছেন বলেও জানা যায়নি। বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের ভিত্তি বিবেচনা করলে ওয়ারেন বাফেটদের সঙ্গে তার ছিল যোজন যোজন দূরত্ব। তবে কিছু জায়গায় ছিল বড় মিল। এর মধ্যে ১ নম্বর হলো লগ্নির টাইমিং, ধরে রাখার মেয়াদ আর নিজ কৌশলে দৃঢ় থাকা।

কার্যত দুপক্ষের একই সূত্র, কম দামের জন্য এমন সময়ে কিনতে হবে, যখন শেয়ারবাজারের নাম শুনলেই সবাই আঁতকে ওঠে। ছোট ছোট ঝড়ঝাপটায় বিচলিত না হয়ে ধৈর্য নিয়ে তা শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে হবে। একসময় বোকারা যখন দ্রুত টাকা বানানোর জন্য শেয়ারবাজারে ঝাঁপিয়ে পড়বে, তাদের কাছে বিক্রি করে নিজের মুনাফাটুকু বুঝে নিতে হবে। এ দর্শন আর কৌশলকে কস্তোলানি নিজের ‘ডিমতত্ত্ব’র মাধ্যমে সবার সামনে তুলে এনেছিলেন।

কার্যত দুপক্ষের একই সূত্র, কম দামের জন্য এমন সময়ে কিনতে হবে, যখন শেয়ারবাজারের নাম শুনলেই সবাই আঁতকে ওঠে। ছোট ছোট ঝড়ঝাপটায় বিচলিত না হয়ে ধৈর্য নিয়ে তা শেষ পর্যন্ত ধরে রাখতে হবে। একসময় বোকারা যখন দ্রুত টাকা বানানোর জন্য শেয়ারবাজারে ঝাঁপিয়ে পড়বে, তাদের কাছে বিক্রি করে নিজের মুনাফাটুকু বুঝে নিতে হবে। এ দর্শন আর কৌশলকে কস্তোলানি নিজের ‘ডিমতত্ত্ব’র মাধ্যমে সবার সামনে তুলে এনেছিলেন।


জীবন ও কাজ

হাঙ্গেরির একটি বনেদি পরিবারে জন্ম নেয়া আন্দ্রে কস্তোলানি বুদাপেস্টে দর্শন আর শিল্পকলার ইতিহাস পড়ছিলেন। তার বাবার একজন বন্ধু প্যারিসের ইনভেস্টমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন, যার ইচ্ছায় পিতা তাকে সেখানে ব্যবহারিক জীবনে ঠেলে দেন। প্যারিসে কিশোর বয়সেই প্রথম ব্রোকারেজ সেবা, বিনিয়োগ আর স্পেকুলেশনের সঙ্গে পরিচিত হন তিনি। দ্রুত সবকিছু শিখে নিয়ে স্পেকুলেটর আর আরবিট্রেজার হিসেবে ভালোই করছিলেন তিনি। গড়পড়তা বিনিয়োগকারীদের মতো ঝুঁকি বিশ্লেষণ নিয়ে কোনো মাথাব্যথাই ছিল না তার। খেসারতও দিয়েছেন এর। বড় বড় বাজি ধরে প্যারিসে কয়েকবারই দেউলিয়া হওয়ার দশা হয়েছিল তার। তবে কাছের মানুষজনের কাছ থেকে টাকা-পয়সা নিয়ে আবারো ঘুরে দাঁড়ান দ্রুত। বড় ঝুঁকি, বড় প্রাপ্তির সহজ সূত্রে তার ওপর আস্থা রাখছিলেন অনেক বন্ধু। কারণ বাজারের গতিবিধি পর্যালোচনায় তিনি দিব্যদৃষ্টির মতো কিছু একটার প্রমাণ রাখতে শুরু করেন মাঝে মাঝেই।

১৯২৯ সালের শেষ দিকে যখন শেয়ারবাজার ধসে পড়তে শুরু করে, তখন তিনিও টের পাচ্ছিলেন শেয়ারবাজার অন্য সময়ের মতো স্বাভাবিক সংশোধনে যাচ্ছে না, যেমনটি ওয়াল স্ট্রিটে সিনিয়র কেনেডিরা বুঝতে পারছিলেন। প্যারিসে যুবক কস্তোলানির আগ্রাসী শর্টসেলিংয়ের গল্প শুনে শুরুর দিকে অনেক অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীই হাসছিলেন। তবে নিজের পরিচয় তুলে ধরলেন কস্তোলানি। ১৯৪০ সালে যখন জার্মানরা ফ্রান্স দখল করে বসল, কস্তোলানি নিজের টাকা-পয়সা নিয়ে নিউইয়র্কে পালিয়ে যান। বাল্লে অ্যান্ড সিএ ফিন্যান্সিং নামের একটি বিনিয়োগ কোম্পানির মূল শেয়ারহোল্ডার ও নির্বাহী প্রধান হিসেবে এক দশক সেখানে ছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর তিনি ইউরোপের ঘুরে দাঁড়ানোর উদ্যোগের সঙ্গী হন। ১৯৫০ সালে প্যারিসে ফিরে গিয়ে জার্মান পুনর্গঠন প্রচেষ্টার ওপর বাজি ধরেন।
 


নিজের বই ও আর্টিকেলগুলোয় কস্তোলানি বলেছেন, বৈদেশিক মুদ্রায় জার্মান সরকারের বন্ডগুলো মাত্র ২৫ শতাংশ দামে পাওয়া যাচ্ছিল। খুব কম বিনিয়োগকারীই সেখানে সাহস দেখাতেন। জার্মান সরকারের প্রধান তাদের অর্থনীতিকে ট্র্যাকে তোলার মিশনে সফল হলেই এগুলো যথামূল্যে চলে আসবে। এমন অবস্থায় আমি বাজিগুলো ধরেছিলাম এবং বড় মুনাফা পেয়েছিলাম।

আন্দ্রে কস্তোলানি ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র আর জার্মানির বন্ড, শেয়ার ও অন্যান্য সিকিউরিটিজের বাজারে বিনিয়োগ করে নিজের সম্পদ বহুগুণ বাড়িয়েছেন। সাত দশকের বিনিয়োগ অভিজ্ঞতা আর দর্শন শেয়ার করতে তিনি এক ডজনের বেশি বই লিখেছেন, যেগুলোর লাখ লাখ কপি বিক্রি হয়েছে। তবে দুঃসংবাদ হলো, একটি বইও ইংরেজি ভাষায় প্রকাশ হয়নি। পূর্ব এশীয় বিভিন্ন প্রকাশক স্থানীয় ভাষায় সেগুলোর অনুবাদ প্রকাশ করে ভালো সাড়া পেয়েছেন। অবশ্য বিভিন্ন ম্যাগাজিনে তার অনেক বক্তব্য সময়ে সময়ে ভালো আলোড়ন তুলেছে, যেগুলো ইংরেজির পাঠকদের সামনে কস্তোলানিকে তুলে ধরেছে। অবসর জীবনে জার্মান ‘ক্যাপিটাল’ ম্যাগাজিনে কস্তোলানির চার শতাধিক লেখা তাকে ইউরোপের বিনিয়োগকারীদের কাছে ভিন্ন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

বিনিয়োগকারীর সামষ্টিক সেন্টিমেন্ট ও বাজারের স্বরূপ সম্পর্কে নিজের দেয়া ডিমতত্ত্ব খুব মেনে চলতেন ভদ্রলোক। অর্থনীতি ও আর্থিক বাজারের চক্রাকার উত্থান-পতনের তত্ত্ব যখন ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত, শেয়ারবাজারে উত্থান-পতনের কিছু কমন প্যাটার্ন যখন সবারই কমবেশি দেখা হয়ে গেছে, তখন তার ডিমতত্ত্বকে হয়তো বিশেষ কিছু মনে হবে না। তবে ১৯২৯ সালের বিপর্যয়ে শর্টসেল থেকে ভালো মুনাফা করা কস্তোলানির পুরো ক্যারিয়ারের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলে এটি বড় কিছুই। তার ভাষায়, শেয়ারবাজারে সাফল্য একটি কলা, বিজ্ঞান নয়। এক জীবনে শত জীবনের অর্জন এনে দেয়ার জন্য শেয়ারবাজারের সামষ্টিক সেন্টিমেন্ট পঠনের এ কলার বিকল্প নেই বলে বিশ্বাস করতেন ১৯৯৯ সালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা কস্তোলানি।



ডিমতত্ত্ব
যৌক্তিক পর্যবেক্ষণের আলোকেই ডিমতত্ত্ব শেয়ারবাজারের হ্রাস-বৃদ্ধিকে একটি চক্রাকার ঘটনাপ্রবাহ হিসেবে স্বীকার করে নেয়। অন্যদের মতো কস্তোলানিও বিশ্বাস করতেন, শেয়ারবাজারে মূলত তিনটি পর্যায় থাকে, প্রথমটিতে কিনতে হয়, দ্বিতীয় পর্যায়ে ধৈর্য নিয়ে ধরে রাখতে হয় এবং তৃতীয় ধাপে বিক্রি করে দিতে হয়। আদর্শ অবস্থায় চক্রের ক্লকওয়াইজ মুভমেন্ট একটি চমত্কার ডিম উত্পন্ন করে। পর্যায় তিনটি আনুভূমিকভাবে ডিমটিকে তিন অংশ ভাগ করে— ওয়ান, টু, থ্রি।
অন্যদিকে উলম্বভাবে ডিমটিকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়, এ ও বি। চিত্রে প্রদর্শিত ‘এ’ অংশ বুল মার্কেটকে এবং ‘বি’ অংশটি বিয়ার মার্কেট তথা মন্দা বাজারকে তুলে ধরে।
কস্তোলানি তার তত্ত্বের ডিমটিকে মোট ছয় ভাগে ভাগ করেন। ক্লকওয়াইজ হিসাব করলে প্রথমে আসে এ ওয়ান, তারপর এ টু এবং এ থ্রি। বাজার যখন ‘এ’ অংশের থ্রিতে প্রবেশ করে, তখন সেখানে নতুন ক্রেতার সমাগম বাড়ে। দ্রুত মুনাফার জন্য তারা প্রতিযোগিতা করে অযৌক্তিক দামে শেয়ার বা সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটিজ কিনে সেখানে ঝুঁকি বাড়ায় এবং বুদ্ধিমানরা তাদের কাছে সেগুলো বেচে মুনাফা বুঝে নেন।
ডিমতত্ত্বে কস্তোলানি বাজারের পরিস্থিতি অনুধাবনের জন্য প্রাইস ট্রেন্ডের বাইরে অন্য যে দুটি উপাত্তকে প্রাসঙ্গিক করে তুলেছেন, তা হলো ভলিউম আর লেনদেনকারীর সংখ্যা। এ তিন জিনিসের সমন্বয়েই গণসম্পৃক্ততার স্পেকুলেটিভ বাজারগুলোর প্রকৃত অবস্থা অনুধাবনের চেষ্টা করেছেন তিনি।
ওয়ান: এই ধাপে বাজারে শেয়ারের দর নিম্নমুখী কিংবা প্রায় স্থিতিশীল থাকে। ভলিউম কম আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো, এ সময় বাজারে বিনিয়োগকারী বা ট্রেডারের সংখ্যা তুলনামূলক কম থাকে।
টু: দর ঊর্ধ্বমুখী, ভলিউম আর বিনিয়োগকারীর সংখ্যা খুব বেশি না। তবে পর্যায়টি যত পরিণত হয়, বিনিয়োগকারীর সংখ্যা স্পষ্টতই বাড়তে থাকে।
থ্রি: দরে একটি বাবল সৃষ্টি হয়েছে বলে সতর্ক করেন মৌলভিত্তি বিশ্লেষকরা। তার পরও বিনিয়োগকারীদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহ এ দরকে বহুদূর টেনে নিয়ে যায়। ক্রমবর্ধমান বিনিয়োগকারীর অংশগ্রহণে ভলিউম ক্রমেই বাড়তে থাকে। দীর্ঘমেয়াদি চক্রে এ ধাপে প্রায় প্রতিবারই নতুন নতুন রেকর্ড হয়।
বি ওয়ান: ওয়ান বা বি থ্রি ধাপে করা লগ্নি তুলে নিয়ে ক্রমেই নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন বুদ্ধিমান বিনিয়োগকারীরা। বাজারে আত্মবিশ্বাসী বিনিয়োগকারীর সংখ্যা কমতে শুরু করায় দামও কমতে শুরু করে। লেনদেন ও বিনিয়োগকারীর সংখ্যাও কমতে শুরু করে। এ ধাপে বাজার নিয়ে নিরাশ মানুষের সংখ্যা খুব বেশি থাকে না। বহু মানুষ আশা করেন, সাময়িক সংশোধন শেষে সবকিছু আগের ডিরেকশনেই এগোবে। তবে তাদের কারো কারো মধ্যে সতর্কতাও বাড়তে থাকে।
বি টু: পর্যায়টিকে বি ওয়ানের সম্প্রসারিত ধাপ বলা যেতে পারে। দর, ভলিউম ও বিনিয়োগকারীর সংখ্যা আরো কমতে থাকে। মাঝে মাঝে দর হঠাৎই বেশি কমে যায়। ধাপে ধাপে দর নামতে থাকে আর বিনিয়োগকারীর ভীতিও বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে এসে আরো বেশি মানুষের মধ্যে ভীতি বেড়ে গেলে সময়ে সময়ে দরপতনের দিনেও ভলিউম বাড়ে।
বি থ্রি: ধাপে এসে বেশির ভাগ বিনিয়োগকারীই বিশ্বাস করতে শুরু করেন, দরপতন আরো ত্বরান্বিত হবে। শেয়ার বেচে দেয়াই ভালো। নিম্নমুখী বাজারে ভলিউম অনেক বেড়ে যায় আর বিনিয়োগকারীর সংখ্যা ক্রমেই কমতে থাকে।
এমনই কোনো পরিস্থিতির জন্য অপেক্ষায় থাকা কন্ট্রারিয়ানরা কম দামে শেয়ার কিনে বাজি ধরেন। তারা সংখ্যায় বাড়তে থাকলে একসময় ট্রেন্ড ট্রেডারদের কেউ কেউও এসে ক্রেতার সারিতে যোগ দেন। বাজার এ ওয়ান ধাপে ফিরে যায়।
শেয়ারবাজারে উত্থান-পতনের অন্যান্য চক্রাকার বৃত্তান্তের সঙ্গে ডিমতত্ত্বের পর্যবেক্ষণে বিশেষ পার্থক্য নেই। কিন্তু আন্দ্রে কস্তোলানি প্রাইস ট্রেন্ড, ভলিউম আর নাম্বার অব পার্টিসিপেন্টসের সমন্বয়ে আগ্রহীদের জন্য আরো সুনির্দিষ্ট একটি পথ বাতলে দিয়েছেন।
মজার ব্যাপার হলো, বুল মার্কেটে এ ডিমটির বাম পাশটা উঁচু হয়, অর্থাৎ ‘এ’ অংশটি দীর্ঘায়িত হয়। আর মন্দাবাজারে ডান পাশের উচ্চতা বাম পাশের তুলনায় বেশি। অর্থাৎ নিম্নমুখিতার মেয়াদ তুলনামূলক দীর্ঘস্থায়ী হয়।
পরিস্থিতিভেদে ডিমের নিচের অংশ উপরের অংশের তুলনায় বেশি চওড়া হতে পারে আবার ঠিক উল্টোটাও হতে পারে। তবে কস্তোলানির ডিমে শেয়ারবাজারের সব স্টাইলের উত্থান-পতনের চক্রকেই উপস্থাপন করা যায়।
 
ডিমতত্ত্ব চক্রের মেয়াদ
ডিমতত্ত্বে উল্লেখ করা চক্র শেয়ারবাজারের সব মেয়াদি চিত্রেই পাওয়া যাবে। যারা মিনিট চার্ট দেখে ডে ট্রেডিং করেন, তারাও এটি পর্যবেক্ষণ করবেন, আবার ৫ থেকে ২৫ বছর মেয়াদি কোনো চক্রেও এ বাস্তবতা দৃশ্যমান।

তবে মজার ব্যাপার হলো, কস্তোলানির মতো যারা অবসর জীবনে নিজের ইনভেস্টমেন্ট ক্যারিয়ারের কথা ভাবলে তৃপ্তির হাসি হাসতে পারেন, তাদের প্রায় সবাই লম্বা সময়ের চক্রগুলোর সঙ্গে পথ চলেছেন। কারণ চক্রটি যত স্বল্প সময়ের হয়, পরিস্থিতি পঠনে ভুল হওয়ার আশঙ্কা তত বেশি থাকে। এখানেই ভ্যালু ইনভেস্টমেন্টে সবচেয়ে সফল বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে তার আসল মিল। যদিও তিনি নিছক চাহিদা আর জোগানের পূর্বানুমান করতেন, যেখানে বাফেটরা থাকেন ইনট্রিনজিক ভ্যালুর অনুসন্ধানে।


সূত্রঃ  
লেখকঃ সিহাব হাসান,

প্রকাশ : বণিক বার্তা , এপ্রিল ০১, ২০১৮

Investment Strategy : Part-06

3:23 PM 0
Investment Strategy : Part-06

The Magic of Value Investment

ম্যাজিক ফর্মুলা: জোয়েল গ্রিনব্লাট


যেকোনো বিনিয়োগেই সবচেয়ে শক্তিশালী অবস্থানে থাকেন তারা, যারা সস্তায় কিনে রেখেছিলেন। সেকেন্ডারি বাজারের অবস্থা বোঝার জন্য কেউই যখন টিভি ছেড়ে উঠছেন না, তখন তাদের কেউ হয়তো অসময়ে ঘুুমাচ্ছেন, কেউ হয়তো প্রিয়জনদের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, কেউবা হয়তো স্কুলের বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা মারছেন। কারণ এ সপ্তাহে সূচক ৫০ শতাংশের বেশি কমে গেলেও তারা মুনাফায় থাকবেন। ভ্যালু ইনভেস্টিংয়ের সবচেয়ে বড় মজাটা সম্ভবত এখানেই।

উত্থান-পতনের চক্রাকার খেলায় বাজার আমাদের সবাইকে বহুবার সস্তায় শেয়ার কেনার সুযোগ দেয়। এখন প্রশ্ন হলো, সস্তায় কোন শেয়ার কিনব আর কোন শেয়ার এড়িয়ে চলব। ভ্যালু ইনভেস্টমেন্টের গুরুরা অনেক আগেই এসব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দিয়েছেন। মূল উত্তরটি চিরকাল একই থাকবে— যে কোম্পানির ব্যবসা ভালো এবং ভবিষ্যত্ উজ্জ্বল, সস্তায় পেলে এর শেয়ার কিনতে দ্বিধা করা যাবে না। সময়ের পরিক্রমায়, ভিন্ন ভিন্ন বাস্তবতায় সেসব কোম্পানি শনাক্তকরণের কৌশলে হয়তো কিছু পরিবর্তন আসে। নিজের পোর্টফোলিওতে সফল প্রয়োগের পর বই লিখে এসব কৌশল সবার সঙ্গে শেয়ার করেছেন সময়ের চ্যাম্পিয়নরা। হেজ ফান্ড অপারেটর গথাম ক্যাপিটালের প্রতিষ্ঠাতা জোয়েল গ্রিনব্লাট তাদেরই একজন। ১৯৮৫ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ওয়াল স্ট্রিটে বছরে গড়ে ৪০ শতাংশ রিটার্ন নিশ্চিত করে ভ্যালু ইনভেস্টমেন্টের একজন গুরু হিসেবে নিজের আসন পাকাপোক্ত করে নিয়েছেন তিনি। মজার ব্যাপার হলো, মাত্র দুটি সহজ সূত্র ব্যবহার করে তিনি শেয়ার বাছাই করেন, ওয়াল স্ট্রিট যেগুলোকে ‘ম্যাজিক ফর্মুলা’ নামে চেনে। কম্পিউটারাইজড ডাটাবেজে ম্যাজিক ফর্মুলার আক্ষরিক প্রয়োগও লাভজনক প্রমাণিত হয়েছে। প্রি-প্রোগ্রামড ট্রেডিংয়েও অনেক প্রতিষ্ঠান এ কৌশল ব্যবহার করে সাফল্য দেখিয়েছে। এ পর্বের প্রচ্ছদ কাহিনী গ্রিনব্লাটের ম্যাজিক ফর্মুলা নিয়ে...

১৯৮০ সালে পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের হোয়ার্টন স্কুল থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন নিউইয়র্কার জোয়েল গ্রিনব্লাট। ইনভেস্টমেন্ট ইন্ডাস্ট্রিতেই কাজ করে যাচ্ছিলেন। ১৯৮৫ সালে তিনি নিজের হেজ ফান্ড চালু করেন। ৭ মিলিয়ন ডলারের গথাম ক্যাপিটাল ফান্ডের প্রারম্ভিক পুঁজির সিংহভাগই দিয়েছিলেন জাংক বন্ড কিং মিশেল মিলকেন। হিসাব টেনে দেখা যায়, ১৯৮৫ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত ফান্ডটি গড়ে প্রতি বছর ৪০ শতাংশ রিটার্ন এনে দেয়। পারফরম্যান্সের কারণেই তারকা বিনিয়োগকারী হয়ে যান ভদ্রলোক। মধ্যবর্তী সময়েই লেখালেখি শুরু করেন। অন্তত এক ডজন বইয়ের প্রচ্ছদে তার নাম দেখা যায়। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির গ্রাজুয়েট স্কুল অব বিজনেসে লেকচারও দেন।

শুরুটা ছাত্রজীবনেই
বিভিন্ন সাক্ষাত্কারে জোয়েল নিজেই জানিয়েছেন, শুরু থেকেই ভ্যালু ইনভেস্টমেন্ট নিয়ে নিরীক্ষাধর্মী কাজে বেশ সিরিয়াস ছিলেন তিনি। হোয়ার্টনে পড়ার সময়ই বন্ধুদের সঙ্গে নিয়ে এসঅ্যান্ডপিভুক্ত কোম্পানিগুলোর একটি সেকেন্ডারি ডাটাবেজ গড়ে তোলেন তিনি, যাতে শেয়ারদর ও মৌলভিত্তির উপাত্ত ছিল। পরীক্ষামূলকভাবে সেখানে বেঞ্জামিন গ্রাহামের নেট-নেট ফর্মুলা প্রয়োগ করে তিনি দেখেন, সস্তায় শেয়ার কিনলে দীর্ঘমেয়াদে ভালো মুনাফা হয়। ভ্যালু ইনভেস্টমেন্টের জনক বেঞ্জামিন গ্রাহামের সূত্রটি ছিল, লিকুইডেশন ভ্যালু বা অবসায়নকালীন মূল্যের চেয়ে কমে পেলে একটি শেয়ার কিনে সেটি ধরে রাখা। প্রায় শূন্য ঝুঁকির এসব শেয়ার একসময় ভালো মুনাফা দেয়।

লিকুইডেশন ভ্যালু = সম্পদসমুদয় দায়
আরো পর্যবেক্ষণের পর জোয়েলরা দেখলেন, গ্রুপ হিসেবে এ শেয়ারগুলো মুনাফা দিলেও গ্রাহামের সূত্র থেকে পাওয়া সব সস্তা শেয়ার সেকেন্ডারি বাজারে ভালো করেনি। তখন জোয়েল সিদ্ধান্ত নিলেন, সস্তায় পেলেই সব শেয়ার কেনা যাবে না। বরং ভালো কোম্পানির শেয়ার খুঁজে বের করতে হবে। তিনি হিসাব মিলিয়ে দেখলেন, বাজারের দুর্দিনে ভালো-মন্দ সব শেয়ারের দামই কমে যায়। এর মধ্যে বেছে বেছে ভালো শেয়ারগুলোতে বিনিয়োগ করাই চ্যালেঞ্জ। এ পর্যায়ে তিনি ওয়ারেন বাফেটের তত্ত্বে বেশ প্রভাবিত হলেন। গ্রাহাম যেখানে সবচেয়ে সস্তায় শেয়ার কেনাকে বেশি গুরুত্ব দিতেন, বাফেট সেখানে শুধু ভালো কোম্পানিগুলোকেই পোর্টফোলিওতে চান।

ঐতিহাসিক উপাত্তের ওপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে গ্রিনব্লাট সিদ্ধান্ত নেন, দুই গুরুর শিক্ষার সমন্বয় ঘটাবেন। অর্থাত্ ভালো কোম্পানির শেয়ারের দাম যখন কমে যাবে, তখন সেটি শনাক্ত করতে হবে। ভালো কোম্পানি বাছাইয়ের জন্য তুলনামূলক জনপ্রিয় নির্দেশকগুলোর বদলে তিনি সূত্র হিসেবে নেন রিটার্ন অন ক্যাপিটালকে (আরওসি)। অর্থাত্ একটি কোম্পানি তার মূলধনের বিপরীতে যথেষ্ট আয় করতে পারলে এটিই ভালো কোম্পানি। মোটা দাগের আর্থিক নির্দেশকগুলোর বদলে তিনি প্রতি ক্ষেত্রেই আরো সুনির্দিষ্ট হওয়ার চেষ্টা করেন। সুদ ও কর হিসাব করার আগ পর্যন্ত পরিচালন মুনাফাকে কোম্পানির নিট চলতি মূলধন ও স্থায়ী সম্পদের যোগফল দিয়ে ভাগ করলেই জোয়েলের আরওসি পাওয়া যায়।

রিটার্ন অন ক্যাপিটাল = সুদ করপূর্ব পরিচালন মুনাফা/নিট চলতি মূলধন + নিট স্থায়ী সম্পদ
এ একটি সূত্রই ভালো কোম্পানি খোঁজার চেষ্টায় তাকে ৯০ শতাংশেরও বেশি ক্ষেত্রে সঠিক প্রমাণ করেছে।
এদিকে ভালো কোম্পানিটির শেয়ার এখন অতিমূল্যায়িত না অবমূল্যায়িত, তা বের করার জন্য সূত্র হিসেবে গ্রিনব্লাট বেছে নেন আর্নিংস ইল্ডকে। যৌক্তিক কারণে এ কৌশলটিও ওয়াল স্ট্রিটে টানা দুই যুগ ধরে নিজের আবেদন ধরে রাখে। এখনো হয়তো তাই।

আর্নিংস ইল্ড = সুদ করপূর্ব পরিচালন মুনাফা/এন্টারপ্রাইজ ভ্যালু
এন্টারপ্রাইজ ভ্যালু = কোম্পানির বাজার মূলধন (সব সাধারণ প্রেফারেন্স শেয়ারের মোট বাজারমূল্য) + কোম্পানির মোট ঋণের বর্তমান মূল্য + মাইনরিটি ইন্টারেস্টনগদ কোম্পানির নিট বিনিয়োগ

লক্ষ্য করুন, অবমূল্যায়িত কোম্পানি খোঁজার সময় মূল্য আয় (পিই) বা প্রাইস টু বুক ভ্যালু (পিবি) রেশিওর মতো নির্দেশকগুলোকে বাদ দিয়ে তিনি আরো সুনির্দিষ্ট অনুসন্ধানে চলে গেলেন। মূল ব্যবসাটি কেমন করছে— একটি কোম্পানির নিট মুনাফার উপাত্ত থেকে তা সবসময় বোঝা যায় না। এজন্য তিনি পরিচালন মুনাফার ওপর বেশি গুরুত্ব দিলেন। এন্টারপ্রাইজ ভ্যালুকে আমলে নেয়ার অর্থ হলো, একটি কোম্পানি অধিগ্রহণে বিনিয়োগকারী যে খরচ করতে প্রস্তুত— জোয়েল গ্রিনব্লাট তার নিরিখেই হিসাব করে দেখছেন, বর্তমান বাজারদরে কোম্পানিটি অতিমূল্যায়িত না অবমূল্যায়িত।

অটোমেটেড সিস্টেমে এ দুটি সূত্র বসিয়ে সার্চ করার পর উভয় ক্ষেত্রেই বহু কোম্পানির একটি তালিকা চলে আসে। একটিতে ভালো কোম্পানির মেরিট লিস্ট, অন্যটিতে মূল ব্যবসায় ভালো করছে এমন সস্তা কোম্পানির অগ্রাধিকার তালিকা।

ভালো সস্তার র‍্যাংকিং
পরের ধাপে দুই তালিকার মধ্যে সমন্বয় করে বিনিয়োগযোগ্য কোম্পানি বাছাইয়ের পালা। এজন্য গ্রিনব্লাট তার টু ফ্যাক্টর কম্পিউটার প্রোগ্রাম সেট করলেন। উচ্চ আরওসি ও আর্নিং ইল্ডের সমন্বয়ে জন্ম নিল ম্যাজিক ফর্মুলা।
উদাহরণ হিসেবে গ্রিনব্লাট দেখিয়েছিলেন, ধরুন একটি প্রতিষ্ঠান সে সময়ে ডাটাবেজভুক্ত সাড়ে তিন হাজার কোম্পানির মধ্যে আরওসি চ্যাম্পিয়ন তালিকায় ১০ নম্বরে আছে, আর আর্নিংস ইল্ড তালিকায় ২০ নম্বরে আছে। এ কোম্পানির ম্যাজিক ফর্মুলা র্যাংকিং দাঁড়ায় ১০+২০ = ৩০।
এরপর তিনি শুধু ১ থেকে ৩০ র্যাংকিংয়ের কোম্পানিগুলোয় বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেন।

বিনিয়োগের মেয়াদ
গ্রিনব্লাট এ ৩০টি কোম্পানির শেয়ার এক বছরের জন্য ধরে রাখেন। বছর শেষে নতুন তালিকা আসে। সেকেন্ডারি বাজারে ব্যর্থ হওয়া কোম্পানিগুলোকে বছর শেষ হওয়ার আগেই পোর্টফোলিও থেকে সরিয়ে ফেলা আর মুনাফা দেয়া শেয়ারগুলোকে বর্ষপূর্তি পর্যন্ত ধরে রাখার নীতি তিনি আক্ষরিক অর্থেই পরিপালন করছিলেন। নতুন বছরে নতুন তালিকায় তার পুরনো তালিকার কিছু কোম্পানিও হয়তো জায়গা করে নেয়। নতুন পোর্টফোলিওতে তখন সেগুলো আবারো কেনা হয়।

২০০৫ সালে নিউইয়র্ক সোসাইটি অব সিকিউরিটি এনালিস্টদের এক অনুষ্ঠানে গ্রিনব্লাটকে এক বছরের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়েছিল। তিনি জানান, দ্বিতীয় বছরে ধরে রাখলে পরিসংখ্যানগতভাবে কৌশলটির সাফল্য কমে যায়। এর কারণ সম্ভবত ভ্যালু শেয়ারগুলো খুব লম্বা সময় অবমূল্যায়িত থাকে না। রিলেটিভ ভ্যালুয়েশনে বিষয়টি বেশি প্রযোজ্য। যত বেশি মানুষ ভ্যালু ইনভেস্টমেন্টে বিশ্বাসী হবে, শেয়ার ধারণের এ চক্রটি তত ছোট করে আনতে হবে।

শেয়ার বিক্রি
‘এ বাজারে শেয়ার বিক্রি একটি শিল্পকলা, যা আমরা এখনো শিখিনি। এ কারণে আমরা ইনট্রিনজিক ভ্যালুতে শেয়ার বেচে দিই।’ শহরের সবচেয়ে বড় সিকিউরিটিজ বিশ্লেষকদের সামনে কথাটি হয়তো রসিকতা করেই বলেছিলেন গ্রিনব্লাট। হয়তো কিছুটা বিনয়ও ছিল। আবার হয়তোবা সত্যিও। কারণ এমন ঘটনা অনেক ঘটেছে, যেখানে তারা বিক্রি করে দেয়ার পর ছয় মাসেই শেয়ারটির দর দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এটা শোনার পর আমাদেরই মন খারাপ হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু কোয়ান্ট গ্রিনব্লাট তার ফর্মুলার আক্ষরিক প্রয়োগে অবিচল। এজন্যই হয়তো গথাম ক্যাপিটালের পোর্টফোলিও প্রতি বছর ২০০৬ সাল পর্যন্ত ২১ বছরে গড়ে ৪০ শতাংশ বেড়েছে।

ম্যাজিক ফর্মুলার হাইপোথেটিক্যাল রিটার্ন

  • ১৯৮৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত ১৭ বছরে ম্যাজিক ফর্মুলার ব্যাকটেস্টেড বার্ষিক রিটার্ন ছিল ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ
  • সর্বোচ্চ মূলধনি ১ হাজার কোম্পানির ক্ষেত্রে এ রিটার্ন ২২ দশমিক ৯ শতাংশ
  • ম্যাজিক ফর্মুলা ৯৬ শতাংশ সময় বাজারের চেয়ে বেশি রিটার্ন দিয়েছে
  • সস্তায় কেনা শেয়ারের পোর্টফোলিওর ভলাটিলিটি তুলনামূলক কম ছিল

ম্যাজিক ফর্মুলার দুর্বলতা প্রসঙ্গে গ্রিনব্লাট
দীর্ঘমেয়াদি রিটার্ন আমলে নিয়ে বার্ষিক গড় ভালো দেখা গেছে মানে এই নয় যে, গ্রিনব্লাটের পোর্টফোলিও কোনো বছর ভোগেনি। সার্বিকভাবে বাজার নিম্নমুখী থাকলে কোনো কোনো বছর তাকে হতাশও হতে হয়। তবে প্রতিকূল সময়ও দেখা গেছে, কম দামে গ্রিনব্লাটের কেনা ভালো শেয়ারগুলোর প্রতি বাজারের একটি আকর্ষণ রয়ে গেছে। ভ্যালু বিষয়টিই এমন।

তার পরও খারাপ সময় যায়। তখন হয়তো ঠিক উল্টো দর্শনের একদল ওয়ালস্ট্রিটার মুনাফা গুনছে। গ্রিনব্লাটের বক্তব্য, ম্যাজিক ফর্মুলা সব সময় একই হারে সাফল্য দেখাবে, এমনটি আমিও আশা করি না। তাহলে সবাই এ ফর্মুলা ব্যবহার করত। আর সবাই এ ফর্মুলা ব্যবহার করলে কৌশলটির কার্যকারিতা আরো কমবে। বাজার তখন মুনাফা করার নতুন কোনো কৌশল নিয়ে মাতবে। তবে ভ্যালু ভ্যালুই থেকে যাবে।


সৌজন্যেঃ হাসান শাহারিয়ার

Investment Strategy : Part-05

3:13 PM 0
Investment Strategy : Part-05

বিনিয়োগ পদ্ধতি : ভ্যালু ইনভেস্টমেন্ট


পুজিবাজারে সফল হবার অসংখ্য পদ্ধতি রয়েছে। তবে কোন পদ্ধতিই  অপনাকে সফল হবার শতভাগ নিশ্চয়তা দিবে না। এই  অসংখ্য বিনিয়োগ পদ্ধতির মধ্যে আমার পছন্দের একটি পদ্ধতি হল ভ্যালু ইনভেন্টমেন্ট। ভ্যালু ইনভেন্টমেন্ট এর জনক বেঞ্জামিন গ্রাহাম, আমার বিনিয়োগ আইডল। মার্জিন অফ সেফটি - এই ধারনা তার কাছ থেকে শেখা, যা দিয়ে পুজিবাজারের ছোট-বড়  উত্থান পতনেও টিকে আছি আট বছর ধরে।

ধারনাটি খুবই সাধারন, কমন সেন্স বলতে পারেন। যখন ১০০ টন ওজন বহন করার মত ব্রিজ বানানো হয়, তখন তা ডিজাইন করা হয় ১৩০-১৫০ টন ওজন নেয়া মত করে। আর সর্বোচ্চ ১০০ টনের বাহন চলাচলের অনুমোদন দেয়া হয়। এই অতিরিক্ত ৩০-৫০ টনই ব্রিজটির মার্জিন অফ সেফটি। এই ধরণের সেফটি মার্জিন আমারা মানব জীবনের প্রায় সব ক্ষেত্রে প্রয়োগ করে থাকি। দরকারের চাইতে কিছু অতিরিক্ত থাকা সব সময় ভাল। তাতে প্রয়োজনের সময় টানা-টানি করতে হয় না।

পুজিবাজারে এই ধারনা বহু পুড়নো। আজ থেকে প্রায় আশি বছর আগে বেঞ্জামিন গ্রাহাম এই ধারনার প্রবর্তন করেন।  ১০ টাকার সম্পদ যদি ৫ টাকায় কেনার সুযোগ পাওয়া যায় তবে ভয় না পেয়ে সেই সুযোগ কাজে লাগানো উচিত। আমরা জামা, জুতা, লেপটপ থেকে শুরু করে ফ্লেট, জমি, বাড়ি কেনার জন্য মূল্য ছাড়ের অপেক্ষায় থাকি। ল্যাপটপ মেলা, আবাসন মেলার প্তহেক্ষায় থাকি বছর জুড়ে। উদ্দেশ্য যদি কিছু ছাড় পাওয়া যায়। শুধু পুজিবাজারে আমাদের আচরন ব্যাতিক্রম, আমরা পতনে বিক্রয় করি আর উত্থানে ক্রয়। এর কারন আর কিছুই না, কোম্পানি সম্পর্কে অজ্ঞতা অথবা অবিশাস।


যদি আগামী কাল ঘোষনা আসে ৭০ হাজার টাকার আইফোন ৪০ হাজারে দেয়া হবে। তবে আইফোট স্টোরের সামনে লাইন লেগে যাবে নিশ্চিত। কিন্তু যারা ৭০ হাজারে ইতিমধ্যেই আই ফোন কিনেছে তারা কি বিক্রি করে দেয়ার জন্য উতলা হয়ে উঠবেন? আইফোন স্টোরের পাশে সেকেন্ড হ্যান্ড আইফোন বিক্রির বুথ খুলবেন?  না প্রায় কেউই বিক্রি করবেন না। কারন তারা সবাই আইফোনের কোয়ালিটি ও ব্রেন্ডটির ভ্যলু সম্পর্কে জানে।

একই ভাবে যদি কোন স্টকের ভ্যালু সম্পর্কে আপনার ধারনা থাকে তবে বাজারের চলতি দাম নিয়ে আপনি চিন্তিত হবেন না। অবশ্য স্টকের ভ্যালু নির্ণয় করা সহজ কাজ নয়। তবে ১-২ ঘন্টা সময় ব্যায় করলে কাছাকাছি এইটা ধারণা পাওয়া সম্ভব। এবার যদি ধারনা করা ভ্যালুর চাইতে ৩০-৪০ শতাংশ কম দামে স্টকটি বাজার থেকে কেনা যায় তবে নিশ্চিন্ত থাকা যায়। কারন ৩০-৪০ শতাংশ ভুল হবার সম্ভবনা অতি নগন্য। পুজিবাজারে এটাই আপনার মার্জিন অফ শেফটি।

তাই জানুন বেঞ্জামিন গ্রাহামের মার্জিন অফ শেফটি ও ভ্যালু ইনভেন্টমেন্ট  সম্পর্কে। যার অনুসারীগন মহা প্রতাপে পুজিবাজারে বাজিমাত করে চলেছে বিগত ৫০-৬০ বছর ধরে। তার অনুসারীরা পুজিবাজারে স্পস্ট ব্যাতিক্রম। সাধারনের সাথে তাদের বিনিয়োগ চিন্তাধারা আচরণ মেলে না। কিন্তু সাফল্যের বিচারে তাদের ধারে কাছে কেউ নাই।

Courtesy By : Hasan Shaharear

Fundamental VS Technical Analysis

3:05 PM 0
Fundamental VS Technical Analysis

ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস বনাম টেকনিক্যাল এনালাইসিস: কিছু প্রচলিত ভুল ধারণা


পূঁজি বাজারে একটি স্টকের আপেক্ষিক আচরণ কী রূপ হবে তা নির্ণয়ের জন্য বহু মত ও পথ রয়েছে। এই সব মত ও পথের অনুসারীদের অনেকেই বিনিয়োগে সফলাতা পেয়েছেন আবার অনেকে ব্যার্থ হয়েছেন। তাই এদের গুণগ্রাহী যেমন আছে কট্টর সমালোচক ও তেমন আছে। শত মত শত পথের মধ্যে জনপ্রিয় দুটি মতাদর্শ (two schools of thought) হল - (১) ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস ও (২) টেকনিক্যাল এনালাইসিস। অন্যদের মত এই দুই বিনিয়োগ কৌশল বা দর্শনের সমর্থনকারী এবং প্রতিপক্ষ উভয়েরই জোড়ালো অবস্থান রয়েছে।

পূঁজি বাজারে যারা নতুন অথবা যারা মাত্র বাজার নিয়ে জ্ঞান আহরণে সচেষ্ট হয়েছেন তাঁরা প্রায়ই এই দুই মতাদর্শের অনুসারীদের পাল্লায় পড়ে কিংকর্তব্যবিমূড় হয়ে পরেন। এক পক্ষের মুরিদরা যদি ডানের পথ দেখায় তো অপর পক্ষ বামের পথ দেখায়। উভয়ের এই পূর্ব-পশ্চিম অবস্থার কারণ বুঝতে বুঝতেই নতুনেরা হয়রান।  তাই আজ চেষ্টা থাকবে  অল্প পরিসরে নতুনদের  জন্য এই বিবিয়োগ কৌশলের তুলনা মূলক একটি চিত্র উপস্থাপন করার  এবং সেই  সাথে কিছু প্রচলিত ভুল ধারনা শুধরে  দেয়ার।

টেকনিক্যাল এনালাইসিস - এই মতাদর্শের অনুসারীরা দক্ষ বাজার তত্বে (efficient market theory) বিশ্বাসী। তাঁরা বিশ্বাস করেন 'বাজার সব সময় নির্মোহ আচরণ করে কারণ সে সব কিছু জানে '। [Market is always right because it knows every thing] একটি কোম্পানির অতীত, বর্তমান ও নিকট ভবিষ্যৎ সব তথ্যই বাজার জানে। তাই এখানে বিনিয়োগকারীগণ নিজেদের বিচার-বুদ্ধি প্রয়োগ করে সুবিবেচনা প্রসূত মূল্য নির্ধারন করেন। অকশনের বাজারে সবাই নিজেদের হ্যা-না (ক্রয়/বিক্রয়) ভোট দিয়েই যোগ্য দাম ঠিক করেন। তাই এখানে বিজয়ী তথা স্রোতের পক্ষেই নৌকা চালাতে হয় (Trend is your friend)। পরাজিতদের ভাগ্যে জোটে শুধুই লাঞ্ছনা ( Don't fight against the Market. if you leave the market today, Mr. Market will leave you tomorrow)।

অন্য ভাবে বলতে গেলে টেকনিক্যাল এনালাইসিসে 'চাহিদা-যোগান' এটি-ই সব কিছুর নিয়ন্ত্রক। ষ্টকের প্রাইস এবং ভলিউম আপনাকে বলে দেবে হাওয়া এখন কোন দিকে। কোম্পানির ফান্ডামেন্টাল (পণ্য বিক্রি, উৎপাদন ব্যয়, লাভ-লোকসান, ঋণ, পূঁজি ইত্যাদি) তথ্য জানার কোন প্রয়োজন নাই। কারণ বাজার এগুলর সব কিছু জানে এবং সব জেনেই ষ্টকের দাম নির্ধার করে। বাজার ছন্দ (Pattern) মেনে চলে, আপনি ততক্ষণ লাভবান হবেন যতক্ষণ এই ছন্দ ঠিক থাকবে। ছন্দ পতন হলেই আপনি বিপদে পড়বেন। মূলত স্বল্প মেয়াদী (অনূর্ধ ৩ মাস) বিনিয়োগের জন্য টেকনিক্যাল এনালাইসিস আদর্শ। আবহাওয়া বদলের মতই মানুষের মন বদলায়, আজকে হাস্যজ্জল তো কালকে বিষাদময়। ফলে চাহিদা-যোগান পরিস্থিতি নিমিষেই বদলে যেতে পারে। মার্কেট সেন্টিমেন্ট নির্ভর টেকনিক্যাল এনালাইসিস তাই ধীর্ঘ মেয়াদী বিনিয়োগের জন্য অনুপযুক্ত। এক জন টেকনিক্যাল এনালিস্ট হিসেবে আপনার সাফল্য নির্ভর করবে মার্কেট টাইমিং এর উপর। টাইমিং যত ভাল হবে আপনার পকেট তত ফুলে ফেঁপে উঠবে।


ফান্ডামেন্টাল এনালাইসিস - এই মতাদর্শের অনুসারীরা দক্ষ বাজার তত্বে (efficient market theory) আস্থাশীল নয়। 'দক্ষ বাজার ব্যবস্থা' এর পূর্ণ কার্যকারীতা তাত্ত্বিক ভাবে প্রমাণ করা গেলেও বাস্তবে এটি পূর্ণ মাত্রায় ক্রিয়াশীল নয়। অবাধ তথ্য প্রবাহের যুগেও কোম্পানির ফান্ডামেন্টাল তথ্য একই সময়ে একই গতিতে সকল বিনিয়োগকারীর কাছে পৌছায় না। আবার একই সময়ে সব তথ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা গেলেও সবাই একই মাপকাঠিতে তাদের বিচার-বিশ্লেষণ করে না। ফলে ষ্টকের অন্তর্নিহিত মূল্য (Intrinsic Value) ও বাজার মূল্যে পার্থক্য সৃষ্টি হয়। কোম্পানির আর্থিক বিবরণী, ভবিষ্যৎ ব্যবসায়িক সম্ভবনা / প্রতিবন্ধকতা, সরকারী নীতি ও সামগ্রিক ভাবে দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিবেচনা করে একটি কোম্পানিকে মূূল্যায়ন করা হয়। যা থেকে এর ষ্টকের অন্তর্নিহিত মূল্য নির্ধারন করা হয়।

ষ্টকের অন্তর্নিহিত মূল্য ও বাজার মূল্যে পার্থক্য থেকেই অতিমুল্যাতিত ও অবমূল্যায়িত অবস্থার সৃষ্টি হয়। এক জন ফান্ডামেন্টাল এনালিস্ট অবমুল্যাতিত ষ্টক ক্রয় করে এবং অতিমুল্যাতিত ষ্টক বিক্রি করে মুনাফা করে (Price what you pay and Value what you get)। তবে কোন ষ্টকের অতিমুল্যাতিত অথবা অবমূল্যায়িত অবস্থা অনুধাবন করতে বাজারের সময় লাগে। বাজার যখন এই পার্থক্য আবিষ্কার করে তখনই চাহিদা-যোগান পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। তাই এখানে পূঁজি এবং সময় উভয়ই বিনিয়োগ করতে হয়। বাজারের কত আগে আপনি এই তথ্য আবিষ্কার করলেন আর কত সময় অপেক্ষা করবেন মূলত তার উপরই ফান্ডামেন্টাল এনালিস্ট হিসেবে আপনার সাফল্য নির্ভর করছে।

Popular quotes

Technical Analysis (TA) -
1. Trend is your friend, be with the trend.
2. Market is always right. Don't fight against the Market.
3. Stock makes pattern and history tends to repeat itself.
4. Buy high, sell higher.
5. Buy rumor, sell news.
6. Don't love a company, only love profits.
7. Stay out when bear show up , get in when bull runs.
8. If you not risk enough, you won't profit enough.
9. Timing is everything that decide your investment fate.
10. Mr. market will give it back what it takes from you.

Fundamental Analysis (FA) -

1. Don't follow the market trend, follow the company, because Mr. market tends to make mistake.
2. Price what you pay and value what you get. In stock market every one knows the price but very few know the value.
3. Don't switch too many, act like an entrepreneur. Stay with a company till it goes well.
4. Only trust what your analysis says. Even pro analysts make mistake.
5. Buy low, sell high. Back stocks (fundamentally good) that abandon by others.
6. Buy a good company with reasonable price, don't buy a reasonable company with wonderful price.
7. Consider bear market as an opportunity to buy good companies in bargain price.
8. History only tells the past. To go forward you need to see through the windshield not the rear view mirror.
9. Always think about the margin of safety, don't lose your money.
10. If you aren’t willing to own a stock for ten years, don’t even think about owning it for ten minutes. The perfect holding period is lifetime.

বুঝতেই পারছেন, দুই কৌশলের চিন্তা ধারায় ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। তাই নতুন কোন বিনিয়োগ উপদেশ শোনার পরে ভাবুন উপদেষ্টা কোন মতাদর্শে (two schools of thought) বিশ্বাসী। যদি আপনার সাথে মিলে যায় তবেই উপদেশগুল আপনার জন্য প্রযোজ্য। পূঁজি বাজারের সব কিছু সবার জন্য সমান ভাবে ফলদায়ক নয়। তাই আপনার সাথে মানসই কৌশল অবলম্বন করুন।


Courtesy By : Hasan Shaharear

Sunday, September 16, 2018

Portfolio Management

11:48 PM 1
Portfolio Management

পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনাঃ পূঁজি বণ্টন কৌশল

পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলর অন্যতম একটি ধাপ হল পূঁজি বণ্টন (asset allocation)। যথাযথ ষ্টক বাছাই ও পূঁজির সুষম বণ্টন বিবিয়োগকারী হিসেবে পুজিবাজারে আপনার ধীর্ঘ মেয়াদী অবস্থান নিশ্চিত করবে। পূঁজি বাজার দ্রুত মুনাফা অর্জনের স্থান নয়। লম্বা সময় ধরে ধারাবাহিক ভাবে মুনাফা প্রাপ্তিই পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ করার আসল উদ্দেশ্য। পূঁজি রক্ষা ও মুনাফার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করনে প্রতিটি বিনিয়োগকারীর জন্য পূঁজি বণ্টন কৌশল অনুসরণ করা অত্যাবশ্যকীয়।


বিনিয়োগ পরিকল্পনার প্রথম ধাপে আপনি ভবিষ্যৎ আর্থিক লক্ষ্য, ঝুঁকি সহনশীলতা এবং কত সময়ের জন্য বিনিয়োগ করবেন তার উপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় মুনাফার হার (required rate of return) নির্ধারণ করবেন। দ্বিতীয় ধাপে পুঁজিবাজারের সম্ভবনা এবং প্রত্যাশিত রিটার্ন নিরূপণ করুন। একই সাথে অন্যান্য সম্পদ শ্রেণী (asset class) থেকে প্রাপ্য মুনাফা ও ঝুঁকির হার পূর্বানুমান করুন। সাধারণ ভাবে সম্পদকে দুইটি ক্লাস/ভাগে ভাগ করা যায়: (১) প্রচলিত সম্পদ শ্রেণী ( যেমনঃ স্টক, বন্ড, এবং নগদ অর্থ) এবং (২) বিকল্প সম্পদ শ্রেণী (যেমনঃ মিউচুয়াল ফান্ড, পণ্যদ্রব্য, ভূমি-ঘরবাড়ি (রিয়েল এস্টেট), প্রাইভেট ইকুইটি, হেজ ফান্ড ইত্যাদি)।


তৃতীয় ধাপ হল পূঁজি বণ্টন। প্রথম ধাপে ঠিক করা আর্থিক লক্ষ্য অর্জনের জন্য, আপনার ঝুঁকি গ্রহণের ইচ্ছা ও সক্ষমতার ভিত্তিতে পূঁজি বণ্টন কৌশল গড়ে উঠবে।আপনার পূঁজি, কোন সম্পদ শ্রণীতে কতটুকু পরিমাণে বিনিয়োগ করা হবে তা-ই নির্ধারিত হবে এই ধাপে। চরিত্রগত ভেবে প্রতিটি সম্পদ শ্রেণীর ঝুঁকি ও মুনাফার মাত্রায় তাৎপর্যপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। কম ঝুঁকি গ্রহণে অল্প মুনাফা এবং বেশী ঝুঁকি গ্রহণে অধিক মুনাফা। মুনাফা ও ঝুঁকি বৈচিত্রতার সর্বচ্চ সুবিধা নেয়ার জন্যই পূঁজি বণ্টন কৌশল প্রয়োজনীয়।


উদাহরণস্বরূপঃ
পোর্টফোলিও-১ (২০% স্টক, ৮০% বন্ড/এফডিয়ার), পোর্টফোলিও-২ (৮০% স্টক, ২০% বন্ড/এফডিয়ার)।

পোর্টফোলিও-২ এর তুলনায় পোর্টফোলিও-১ এর ঝুঁকি ও মুনাফা উভয়ই কম। কিন্তু পোর্টফোলিও-১ নিয়মিত ভাবে অধিক নগদ অর্থ প্রাপ্তির নিশ্চয়তা দেয়। এটি লক্ষণীয় যে, পোর্টফোলিও-২ একটি অতিমাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ পোর্টফোলিও। এটি এক জন ২৫/৩০ বছর বয়সী বিনিয়োগকারীর জন্য উপযোগী। কারণ তার পক্ষে স্টক মার্কেটের উঠা-নামা সহ্য করে ধীর্ঘ মেয়াদে বিনিয়োগ করা সম্ভব। কর্মক্ষম হওয়ায় তার নগদ অর্থ প্রাপ্তির বিকল্প উৎস (চাকুরী, ব্যবসা) রয়েছে। তাই স্বল্প সময়ে নগদ প্রাপ্তির চাইতে সর্বচ্চ পরিমাণ মুনাফা অর্জন তরুণ বিনিয়োগকারীদের জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, পোর্টফোলিও-১ মধ্য বয়সী অথবা পৌড় বিনিয়োগকারীরদের জন্য উপযোগী। যিনি অবসরের কাছাকাছি অথবা জীবনের শেষ পর্যায়ে চলে এসেছেন তাঁর পক্ষে পূঁজি বাজারের বড় পতন সহ্য করা প্রায় আসম্ভব। অনেক বেশী মুনাফা অর্জনের চাইতে ঝুঁকি মুক্ত উপায়ে কম মুনাফায় নিয়মিত অর্থ প্রাপ্তি তাঁর জন্য অধিক গুরুত্বপূর্ণ।


কেন পুজি বণ্টন গুরুত্বপূর্ণ?
পূঁজি বণ্টন কৌশল অবলম্বনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হল এটি বিনিয়োগে বৈচিত্র আনে (investment diversification)। বিভিন্ন শ্রেণীর সম্পদের সংমিশ্রণে বিনিয়োগকারী তার পোর্টফোলিও ঝুঁকি কমিয়ে আনতে পারেন। যদিও বেশির ভাগ মানুষ এই ধারণা বুঝতে চায় না, তারা সব সময় সর্বাধীক রিটার্ন দেয়া সম্পদেই বিনিয়োগ করতে চান। যা প্রকারন্তরে ব্যার্থতা ডেকে আনে। উদাহরণ স্বরূপ,


বিনিয়োগকারী-১ তার পোর্টফলিওতে ৫০% ষ্টক ও ৫০% বন্ড/এফডিয়ার ধারণ করেন। অপর দিকে বিনিয়োগকারী-২ তার পোর্টফলিওতে শুধু ষ্টক ( ১০০%) ধারণ করেন। প্রথম বছর পূঁজি বাজার ১০% ও ব্যাংক ৬% রিটার্ন দিয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয় বছর পূঁজি বাজার -৫% ও ব্যাংক ৬% রিটার্ন দেয়ায় দুই বছর পর বিনিয়োগকারী-১ তাঁর প্রতিযোগীর তুলনায় অধিক মুনাফা অর্জনে সক্ষম হয়েছেন। মূলত উচ্চ ঝুঁকির ষ্টক ও নিম্ন ঝুঁকির এফডিয়ারে পুঁজির সুষম বন্টন কৌশলই বিনিয়োগকারী-১ এর সাফল্যের মূল রহস্য।

 
বিনিয়োগকারী-১ [১ম বছর-(১০+৬)/২= ৮, ২য় বছর- (৬-৫)/২=০.৫। ২ বছর পর মোট রিটার্ন ৮.৫%]
বিনিয়োগকারী-২ [১ম বছর-১০, ২য় বছর- (-৫)। ২ বছর পর মোট রিটার্ন মোট ৫%]


বিভিন্ন প্রকার পূঁজি বণ্টন কৌশল:

বিনিয়োগের সময় কাল এবং ঝুঁকি সহনশীলতা বিবেচনা করে সম্পদের আদর্শ মিশ্রন তথা অনুপাত নির্ধারণ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল কাজ। এই অনুপাত ব্যাক্তি ভেদে ভিন্ন ভিন্ন হবে। বিনিয়োগের জন্য যার দীর্ঘ সময় এবং উচ্চ ঝুঁকি সহনশীলতা রয়েছে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবেই স্টক মার্কেটের জন্য অধিক পূঁজি বরাদ্দ করবেন। পোর্টফোলিওতে স্টক কত টুকু ধারণ করা উচিত তার একটি প্রাচীন নিয়ম (traditional rule of thumb) রয়েছে। বলা হয়ে থাকে ১০০ থেকে আপনার বয়স বাদ দিলে যা থাকে ততটুকু পূঁজি ষ্টক মার্কেটে বিনিয়োগ করা শ্রেয়। যদি আপনার বয়স ২৫ এবং মোট পূঁজি ১০ লক্ষ টাকা হয়, তবে পোর্টফোলিওতে (১০০-২৫)=৭৫% স্টক মার্কেট ও বাকি ২৫% ব্যাংক এফডিয়ার থাকা উচিত। অর্থাৎ ১০ লক্ষ টাকা থেকে ৭.৫ লক্ষ পূঁজি বাজারে ও ২.৫ লক্ষ ব্যাংকে রাখা উচিত। তবে বছরের পর বছর ধরে চলে আসা এই নিয়মকে বিশেষজ্ঞরা অত্যন্ত রক্ষণশীল পূঁজি বণ্টন কৌশল হিসেবে আখ্যায়িত করেন।


বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় দুই ধরণের পূঁজি বণ্টন কৌশল নিম্নে আলোচনা করা হলঃ

ধীর্ঘ মেয়াদী পূঁজি বণ্টন কৌশল (Strategic asset allocation): এই কৌশল একটি সুশৃঙ্খল পদ্ধতিতে একজন বিনিয়োগকারীর ঝুঁকি সহনশীলতা এবং প্রত্যাশিত রিটার্ন মাথায় রেখে বিভিন্ন সম্পদের জন্য বিভিন্ন অনুপাতে পূঁজি বণ্টন করে। ধরুন যদি স্টক মার্কেটের জন্য ৫০% পূঁজি বরাদ্দ রাখা হয় তবে ৫% থেকে ১০% অনুমোদনযোগ্য বিচ্যুতি অনুসরণ করা হয়। যদি ষ্টক মার্কেটে আপনার পূঁজি অনুমোদনযোগ্য বিচ্যুতি এর অধিক হ্রাস-বৃদ্ধি হয় তবে আপনাকে পোর্টফোলিও সমন্বয় (rebalanced) করতে হবে। ১০% বিচ্যুতি অনুসারে পূঁজি ৫০% থেকে ৪০% বা তার বেশী নীচে নেমে গেলে আপনি অতিরিক্ত স্টক কিনবেন। আর যদি বরাদ্দকৃত পূঁজি ৬০% এর বেশী বেড়ে যায় তবে আপনি স্টক বিক্রি করে পুনরায় পুঁজির অনুপাত ৫০% এ ফিরিয়ে আনবেন।


রক্ষণশীল পূঁজি বণ্টন কৌশল [৪০% ষ্টক, ৪৫% বন্ড/এফডিয়ার, ১৫% ক্যাশ]
মধ্যবর্তী পূঁজি বণ্টন কৌশল [৬০% ষ্টক, ৩০% বন্ড/এফডিয়ার, ১০% ক্যাশ]
আগ্রাসী পূঁজি বণ্টন কৌশল [৭৫% ষ্টক, ২০% বন্ড/এফডিয়ার, ৫% ক্যাশ]


স্বল্প মেয়াদী পূঁজি বণ্টন কৌশল (Tactical asset allocation): সাধারণ অবস্থায় বিনিয়োগকারীগন ধীর্ঘ মেয়াদী পূঁজি বণ্টন কৌশল অবলম্বন করবেন। কিন্তু পূঁজি বাজার বা বন্ড/এফডিয়ার মার্কেটে ঘটে যাওয়া আকর্ষিক দুর্ঘটনা থেকে আত্নরক্ষার্থে কিংবা হটাৎ প্রাপ্ত সুযোগ কাজে লাগাতে ধীর্ঘ মেয়াদী পূঁজি বণ্টন কৌশল থেকে সরে আসাই স্বল্প মেয়াদী কৌশলের মূল লক্ষ। ধরুন আপনার ব্যাংক বন্ড/এফডিয়ারের রিটার্ন কমিয়ে দিল ফলে এই খাতে আপনার বিনিয়োগ আর আগের মত লাভজনক নয়। সুতরাং আপনি বন্ড/এফডিয়ারের কিছু অংশ সাময়িক সময়ের জন্য পুজি বাজারে নিয়ে আসবেন। বন্ড/এফডিয়ারের রিটার্ন আবার আগের স্থানে ফিরে গেলে আপনিও অতিরিক্ত অর্থ পুজি বাজারে থেকে সরিয়ে নিবেন। অর্থাৎ আপনি আবার মূল কৌশলে ফিরে যাবেন। আবার পূঁজি বাজারে উত্থান ঘটলেও হাতে থাকা নগদ অর্থ স্বল্প মেয়াদে পূঁজি বাজারে আনতে পারেন। বাজার স্বাভাবিক হয়ে এলে অতিরিক্ত বিনিয়োগ আবার নগদ অর্থে পরিবর্তন করুন। বিপরীত ভাবে ষ্টক মার্কেটে পতন শুরু হলে আপনি এখান থেকে অর্থ সরিয়ে ব্যাংকে রাখুন। পতন শেষে আবার তা পূঁজি বাজারে ফিরিয়ে আনুন।

পূঁজির সুষম বণ্টন পোর্টফোলিও নির্মাণ প্রক্রিয়ার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ব্যাক্তি ভেদে এটি খুব কঠোরভাবে অথবা কিছুটা ছাড় দিয়ে অনুসরণ করা হয়। ষ্টক, বন্ড ও নগদ অর্থ – এদের মিশ্রনটি কোন অনুপাতে হবে তা একান্তই ব্যাক্তির বয়স, ঝুঁকি সহনশীলতা, ভবিষ্যৎ লক্ষ, বিনিয়োগ সময়কাল এবং পুঁজি বাজার থেকে তার প্রত্যাশার উপর নির্ভরশীল। এটা খেয়াল করা জরুরী যে, এক ব্যক্তির জন্য যে সম্পদ মিশ্রন আদর্শ ভিন্ন ব্যাক্তির জন্য তা সম্পূর্ণরূপে অনুপযুক্ত হতে পারে।


Courtesy By: Hasan Shaharear

Investment Strategy : Part-04

12:08 PM 0
Investment Strategy : Part-04

IMPORTANT PART OF INVESTMENT STRATEGY 


Designed to lessen risk while increasing rewards, this investment guide outlines the strategies that made the Swiss bankers and businessmen wealthy beyond belief. Gunther provides 12 major Axioms that can help anyone succeed in investing--Swiss style.

'ঝুঁকি হ্রাস করে মুনফা বৃদ্ধির কর্ম-পরিকল্পনা' - যে প্রাচীন কৌশল সুইস ব্যাংকার ও ব্যবসায়ীদের অবিশ্বাস্য রকমের ধনী হতে সহায়তা করেছে তা-ই বর্নিত হয়েছে এই বিনিয়োগ নির্দেশিকায়। ঝুঁকি হ্রাস করে মুনফা বৃদ্ধির এই ১২ টি কৌশল বিনিয়োগকারীদের সফলতার পথ দেখাতে পারে। তবে আসুন দেখি লেখক ম্যাক্স গুন্থার বর্ণীত বিনিয়োগ সফলতার সুইস স্টাইলঃ


On Risk:

- Worry is not a sickness but a sign of health – if you are not worried, you are not risking enough.
- Always play for meaningful stakes – if an amount is so small that its loss won’t make any significant difference, then it isn’t likely to bring any significant gains either.
- Resist the allure of diversification.

ঝুঁকি:

- ভয় অসুস্থতা নয়, সুস্বাস্থ্যের লক্ষণ - যদি আপনি ভয় না পান, তবে আপনি যথেষ্ট ঝুঁকি নিচ্ছেন না।
- সর্বদা অর্থপূর্ণ পরিমানের জন্য খেলুন – পরিমাণ যদি এত ছোট হয় যে তা হারিয়ে গেলে কোনো উল্লেখযোগ্য পার্থক্য হবে না, তাহলে মুনাফা হলেও তা আপনার ভাগ্যের কোনো উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনবে না।
- বিনিয়োগে বৈচিত্র আনার মোহ ত্যাগ করুন।

On Greed:

- Always take your profit too soon.
- Decide in advance what gain you want from a venture, and when you get it, get out.

লোভ:

- সর্বদা মুনাফা দ্রুত গ্রহণ করুন।
- ব্যবসার শুরুতেই মুনাফার পরিমাণ নির্ধারন করুন। যখন কাঙ্ক্ষিত লাভ পেয়ে যাবেন, কেটে পড়ুন।

On Hope:

- When the ship starts sinking, don’t pray. Jump.
- Accept small losses cheerfully as a fact of life. Expect to experience several while awaiting a large gain.

প্রত্যাশা:

- জাহাজ ডুবতে আরম্ভ হলে,প্রার্থনা না করে ঝাঁপ দিন।
- জীবনের অংশ হিসেবে আনন্দ চিত্তে ছোট লোকসান স্বীকার করেনিন। একটি বড় মুনাফার অপেক্ষায় থাকা কালে এ ধরনের বেশ কিছু ছোট ক্ষতি মেনেনিন।

On Forecasts:

- Human behaviour cannot be predicted. Distrust anyone who claims to know the future, however dimly.

ভবিষ্যদ্বাণী:

- মানব আচরণ পূর্বানুমান করা অসম্ভব। যে ভবিষ্যৎ দেখতে পায় বলে দাবী করে, ক্ষীণ ভাবে হলেও তাকে অবিশ্বাস করুন।

On Patterns:

- Chaos is not dangerous until it starts to look orderly.
- Beware the historian’s trap – it is based on the age-old but entirely unwarranted belief that the orderly repetition of history allows for accurate forecasting in certain situations.
- Beware the chartist’s illusion – it is characteristic of human minds to perceive links of cause and effect where none exist.
- Beware the gambler’s fallacy – there’s no such thing as “Today’s my lucky day” or “I’m hot tonight”.

ঘটনার পরম্পরা/পুনরাবৃত্তি:

- বিশৃঙ্খলা ততোক্ষণ পর্যন্ত বিপজ্জনক নয় যতক্ষণ পর্যন্ত শৃঙ্খলা ফিরে আসার লক্ষণ স্পষ্ট হয়।
- ইতিহাসবিদের ফাঁদ থেকে সাবধান – এটা খুবই পুড়নো কিন্তু সম্পূর্ণরূপে অন্যায্য বিশ্বাস যে ইতিহাসের সুশৃঙ্খল পুনরাবৃত্তি ঘটে এবং এ থেকে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে সঠিক পূর্বাভাস দেয়া সম্ভব।
- চার্টিস্টদের বিভ্রম থেকে সাবধান – এটা মানব মনের বৈশিষ্ট্য যে, আমরা ঘটনার কারণ ও তার প্রভাবের মাঝে যোগসূত্র খুঁজি, এমন কিছুর অস্তিত্ব না থাকলেও।
- জুয়াড়িদের ভ্রান্ত ধারণা থেকে সাবধান - "আজ আমার সৌভাগ্যের দিন" অথবা "আজ আমি ফাটিয়ে দিব" এমন কিছুর অস্তিত্ব বাস্তবে নেই।

On Mobility:

- Avoid putting down roots. They impede motion.
- Do not become trapped in a souring venture because of sentiments like loyalty and nostalgia.
- Never hesitate to abandon a venture if something more attractive comes into view.

গতিশীলতা:

- শিকড় গেড়ে বসা থেকে বিরত থাকুন, এটা আপনার গতি ব্যাহত করবে।
- আনুগত্য এবং অতীত সুখসৃতির কারণে ডুবতে বসা ব্যবসা আগলে রেখনা।
- এক ব্যবসা পরিত্যাগ করে আরো আকর্ষণীয় কোন ব্যবসা শুরু করতে কখনও দ্বিধা করোনা।

On Intuition:

- A hunch can be trusted if it can be explained.
- Never confuse a hunch with a hope.

ইন্দ্রীয় জ্ঞান:

- যদি ষষ্ঠইন্দ্রীয় কিছু পূর্বানুমান করে এবং তা ব্যাখ্যাযোগ্য তবে তা বিশ্বাস করা যায়।
- কখনও আশার সঙ্গে ষষ্ঠইন্দ্রীয়ের পূর্বানুমান গুলিয়ে ফেলোনা।

On the Occult:

- If astrology worked, all astrologers would be rich.
- A superstition need not be exorcised. It can be enjoyed, provided it is kept in its place.

অতিপ্রাকৃত ঘটনা:

- যদি জ্যোতিষশাস্ত্র আসলেই কাজ করত,তবে সব জ্যোতিষী-ই ধনী হয়ে যেত।
- কুসংস্কার লালন করোনা। এটা ততোক্ষণ উপভোগ করা যাবে,যতোক্ষণ তা নিজ স্থানে থাকবে।

On Optimism & Pessimism:

- Optimism means expecting the best, but confidence mean knowing how you will handle the worst. Never make a move if you are merely optimistic.

আশাবাদ ও হতাশা:

- আশাবাদ মানে সেরা কিছুর প্রত্যাশা, কিন্তু আত্নবিশ্বাস হল খারাপ পরিস্থীতি সামলে নেবার দক্ষতা। কিঞ্চিৎ আশাবাদের ভিত্তিতে পা বাড়িয়োনা।

On Consensus:

- Disregard the majority opinion. It is probably wrong.
- Never follow speculative fads. Often, the best time to buy something is when nobody else wants it.

সমঝোতা:

- সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত উপেক্ষা করা সম্ভবত ভুল.
- কখনই ফটকাবাজি ঝোঁক অনুসরণ করোনা। প্রায়শই,কিছু কেনার শ্রেষ্ঠ সময় তখন, যখন অন্য কেউ এটা চায়নয়া।

On Stubbornness:

- If it doesn’t pay off the first time, forget it.
- Never try to save a bad investment by “averaging down”.

একগুঁয়েমি:

- যদি প্রথমেই কিছু মুনাফা দিতে ব্যার্থ হয়,তবে তা ভুলে যান।
- একটি খারাপ বিনিয়োগকে কখনই “গড় ক্রয়মূল্য” কমিয়ে রক্ষা করার চেষ্টা করোনা।

On Planning:

- Long-range plans engender the dangerous belief that the future is under control. It is important never to take your own long-range plans or other people’s seriously. In essence these axioms point to the benefit of having an investment strategy and sticking to it, regardless of what other investors say or do. If you don’t have an investment strategy, you could do worse than adopt these principles. However, don’t be afraid to add or subtract ones according to what works for you.

পরিকল্পনা:

- লম্বা সময়ের পরিকল্পনার একটি বিপজ্জনক দিক হল এটা আসস্থ করে যে ভবিষ্যতে সব নিয়ন্ত্রণে থাকবে। নিজের অথবা অন্যের দূরগামী পরিকল্পনাকে অতি গুরুত্ব দিয়োনা। অন্যরা কী বলছে বা করছে তার চেয়ে লাভজনক হল নিজের বিনিয়োগ পরিকল্পনা সাজানো এবং তাতে অটল থাকা। যদি নিজের কোন বিনিয়োগ পরিকল্পনা না থাকে তবে সমূহ ক্ষতি এড়াতে উপরের নীতিসমূহ অনুসরণ করতে পারেন। ইতিমধ্যেই সফলতা দিচ্ছে এমন কোন নীতি থাকলে এগুলোর সাথে যোগ করতে অথবা সাংঘর্ষিক হলে বাদ দিতে কুণ্ঠিত হবেনা।


বিঃদ্রঃ "The Zurich Axioms" বই পর্যালোচনা থেকে।  জসীম উদ্দিন ভাইকে ধন্যবাদ বইটি পড়ার সুযোগ করে দেয়ার জন্য। The Zurich Axioms বিনিয়োগ কৌশলের উপর লিখিত অনেক পুড়নো একটি বই। বইটিতে বর্ণিত বেশ কিছু নীতির সাথে আমার দ্বিমত থাকলেও কিছু নীতি অনুসরণীয়। বইটির যুম্বক অংশ বঙ্গানুবাদ সহ তুলে ধরলাম। আশা করি আপনারা উপকৃত হবেন।

সৌজন্যেঃ হাসান শাহারিয়ার


Investment Strategy : Part-03

11:50 AM 0
Investment Strategy : Part-03

কিনুন, যখন শেয়ার মার্কেটে রক্তক্ষরণ হয়


Buy when there's blood in the streets, even if the blood is your own -- Baron Rothschild অনুবাদঃ কিনুন, যখন শেয়ার মার্কেটে রক্তক্ষরণ হয়, যদি তা আপনার নিজের রক্তও হয় তবু কিনুন।
শেয়ার মার্কেটে বিনিয়োগ সম্পর্কিত এই বিখ্যাত উক্তিটি করেছিলেন বেরন রুথসিল্ড আজ থেকে প্রায় দেড়শ বছর আগে। মার্কেটে যখন পেনিক সেল শুরু হয়, তখন খারাপ ভাল নির্বিশেষে সব শেয়ারই মূল্য হারায়। সর্বগ্রাসী ঐ পতনে কোম্পানির দূর্বল ফান্ডামেন্টালের দায় যতটা, তার চাইতে ঢের বেশী দায় থাকে বিনিয়োগকারীদের পলায়নপর ভীতসন্ত্রস্ত মানসিকতা। পেনিক এতটাই চরম আকার ধারন করে যে, আমজনতা অতি সাধারণ বিনিয়োগ নিয়মনীতি ভুলে হাতে থাকা ভাল শেয়ার পানির দরে ছেড়ে দেন।


 
মার্কেটে যখন ধংসযজ্ঞ চলতে থাকে তখনই কিছু কিছু কোম্পানির শেয়ারে দারুন সব সুযোগ সৃষ্টি হয়। অভিজ্ঞ ও কুশলী বিনিয়োগকারীগন নিশ্চিত ভাবেই এই সুযোগগুলো হাত ছাড়া করেননা। দাম কমেছে বলেই তাঁরা শেয়ার কেনেন এই ধারনা ঠিক নয়। মূল্য নয় বরং তাদের নজর থাকে মানের দিকে। বাজে শেয়ার যত সস্তাই হোক তা বর্জনীয়। এগুলো সল্প সময়ে মুনাফা দিলেও ধীর্ঘ মেয়াদী বিনিয়োগের জন্য অনুপোযুক্ত। তাই মানসম্পন্য ফান্ডামেন্টাল থাকা সত্যেও পেনিক সেলের স্বীকার হয়ে মূল্য হারানো ভাল কোম্পানির শেয়ারগুলোকে টার্গেট করেন অভিজ্ঞ বিনিয়োগকারীরা। তাঁরা দ্বিধাহীন ভাবে অনুসরণ করেন শত বছর আগে করে যাওয়া বেরন রুথসিল্ডের সেই অমর উক্তির - "কিনুন যখন মার্কেটের রক্তক্ষরণ হয়, যদি তা আপনার নিজের রক্তও হয় তবু কিনুন।"
 

২০১৫ সালে কোরবানী ঈদ পরবর্তী মার্কেটে অধিকাংশ দিনেই সূচক ছিল নিম্নমুখী। সূচকের সাথে সাথে মোট লেনদেন নেমে আসে তিনশো কোটির ঘরে। গত দুই মাসে সূচক কমেছে প্রায় ১৮০ পয়েন্ট আর বাজার মূলধন হারিয়েছে দশ হাজার কোটি টাকা! আর সাধারন বিনিয়োগকারীদের পোর্টফলীও থেকে কর্পুরের মত মিলিয়ে গেছে শরীরের রক্ত সমতুল্য পূঁজি। নিজের হাতে থাকা শেয়ারগুলোর মূল্য পতনেও যারা ধৈর্য্য ধারন করেছিলেন এবং নতুন পূঁজি যোগ করে ভাল কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেছিলেন তাঁরা নিশ্চই এই সপ্তাহে কিছুটা সস্তিতে আছেন। মার্কেট ধীরে হলেও ফিরে আসছে। গ্রামীন ফোন, লাফার্জ সুরমার মত বাজারের বড় মূলধনী কোম্পানিগুলো ধীরে ধীরে তাদের হারানো মূল্য পুনরোদ্ধার করছে।

 
এবার নিজের কথায় আসি, এখান থেকেই মার্কেট পূর্নোদ্দমে ঘুরে দাড়াতে পারবে কি না তা এখনই বলা মুশকিল। বাজারের টার্নওভার পাঁচশত কোটির ঘর না ছাড়ালে কিছুই নিশ্চিত নয়। গত দুই মাসে পোর্টফলিওতে থাকা শেয়ারগুল ২০% মূল্য হারিয়েছে কিন্তু কিছুই হাত ছাড়া করিনি। পূঁজি হারালেও ভয় পাইনি, নতুন উদ্দমে বিনিয়োগ করেছি। নতুন পূঁজি যোগ করে শেয়ার কিনেছি দুই হাত ভরে। বাজার যেখানেই যাক তেমন একটা চিন্তা নেই। কারন শেয়ারের দাম দেখে নয় বরং কোম্পানির শক্ত আর্থিক সামর্থ দেখে বিনিয়োগ করেছি। ইনশাল্লাহ নিকট ভবিষ্যতে কোম্পানিগুলো থেকে ভাল মুনাফা পাওয়া যাবে। অনেকেই বলেন - No risk no gain. আসলে বোকার মত বুল মার্কেটে চড়া মূল্যে শেয়ার কিনে সাহস না দেখিয়ে, বেয়ার মার্কেটে কম দামে ভাল শেয়ার কিনে সাহস দেখানই যৌক্তিক। কেনা-কাটা শেষ এবার অপেক্ষার পালা। সামনের দিনগুলই বলে দেবে নতুন কেনা শেয়ারগুলোর ভবিষ্যৎ কেমন যাবে।


আর এখন ২০১৮, যারা ২০১৫ সালে লো প্রাইসে শেয়ার কিনেছেন, তাদের পোর্ট ফলিও এখন কি অবস্থা? ঘন ঘন ট্রেডে আপনি খুব কমই সাফল্য পাবেন, ৫ টায় ৩টা লাভ করবেন, আর ২টায় লস করবেন, বছর শেষে শতকরা লাভের পরিমাণ ১০-২০%, তাও ইন্টারন্যাশনাল মার্কেটের তুলনায় অনেক। আর যদি ২-৩ বছর বা তারও বেশি সময়ে ইনভেস্টে যান তাহলে গেইনের শতকরা পরিমাণ ১০০% বা তারও বেশিই হবে।

(পরিমার্জিত)

সৌজন্যেঃ হাসান শাহারিয়ার